ঘুম ঠিক মতো হয় তো? না হলে কিন্তু

ঘুম ঠিক মতো হয় তো? না হলে কিন্তু

যেন তেন প্রকারেন স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে। এমন ভাবনায় মজে থাকার কারণে যুবসমাজের সিংহভাগই আজকের ডেটে স্ট্রেসের শিকার। আর এমনটা হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমের সঙ্গ তারা হারিয়েছে। আর পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে শরীরে এসে একে একে বাসা বাঁধেছে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্টের রোগের মতো মারণ ব্যাধি। ফলে স্বপ্ন পূরণ তো হচ্ছে, কিন্তু আয়ু যাচ্ছে কমে। আপনিও কি এদেরই একজন? তাহলে তো বলতে হয় এই প্রবন্ধটি আপনার জন্যই লেখা। কারণ এই লেখায় অনিদ্রা দূর করার এমন কিছু সহজ উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা এক্ষেত্রে দারুনভাবে কার্যকরি। তাই আর দেরি না করে চোখ রাখুন বাকি প্রবন্ধে। যে ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি এক্ষেত্র দারুনভাবে কাজে আসে সেগুলি হল…

১. ক্যামোমিল টি:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ঘুমতে যাওয়ার আগে এক কাপ ক্যামোমিল চা পান করার অভ্যাস করলে ইনসমনিয়ার মতো সমস্যা কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ এই পানীয়টির অন্দরে থাকা বেশ কিছু উপকারি উপাদান শরীরের অন্দরে প্রবেশ করার পর ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘুম আসতে একেবারেই সময় লাগে না।

২. দই:

একেবারে ঠিক শুনেছেন, অনিদ্রা দূর করার বিষয়ে দইয়ের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তবে দিনে কম করে ৩ বাটি দই খেতেই হবে। তবেই উপকার মিলবে। আসলে দই খাওয়া মাত্র শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণ তো হয়েই, সেই সঙ্গে শরীরের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে থাকে যে ঘুম আসতে সময়ই লাগে না। সাবধান: আগামী তিন বছরে এদেশে মহামারির আকার নেবে মানসিক অবসাদ! কপালের ভাঁজ দূর করবেন কীভাবে জানা আছে? চটজলদি হালুদ দাঁতকে সুন্দর করে তুলবেন কীভাবে জানেন?

৩. কলা:

মেলাটোনিন, ট্রাইপটোফেন, ম্যাগনেসিয়াম এবং সরোটনিন সমৃদ্ধ এই ফলটি খাওয়া মাত্র শরীরে ঘুম আসতে সহায়ক বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে অনিদ্রার দে ছুট লাগায়! তাই যাদের রাতের বেলা ঠিক মতো ঘুম হয় না, তারা নিয়মিত ঘুমনোর আগে ১-২ টো কলা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন।

৪. দুধ:

ঘুমতে যাওয়ার আগে গরম গরম এক গ্লাস দুধ খেয়ে নিন। তাহলেই দেখবেন অনিদ্রার সমস্যা আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে না। কারণ দুধে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা সেরোটোনিন নামে একটি হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঘুম আসতে সময়ই লাগে না। প্রসঙ্গত, যদি দুধ খেতে ইচ্ছা না করে তাহলে তাতে অল্প করে মধু মিশিয়েও পান করতে পারেন।

৫. লাউ:

এক গ্লাস লাইয়ের রসে পরিমাণ মতো তিল তেল মিশিয়ে নিন প্রথমে। তারপর মিশ্রনটি স্কাল্পে লাগিয়ে কিছু সময় মাসাজ করুন। কিছু সময় পরেই দেখবেন ঘুম এসে যাবে। প্রসঙ্গত, এই মিশ্রনটি যদি মাথায় লাগাতে না চান তাহলে প্রতিদিন লাউয়ের রস খাওয়া শুরু করুন। একই উপকার পাবেন।

৬. নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে:

একথা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গেছে যে নিয়মিত অল্প বিস্তর হাঁটাহাঁটি বা এক্সারসাইজ করলে শরীর ভিতর থেকে এতটা চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে অনিদ্রার মতো সমস্যা দ্রুত কমে যায়। তাছাড়া শরীরচর্চা করার কারণে ক্লান্তিও বাড়ে। এই কারণেও ঘুম আসতে সময় লাগে না।

৭. পোস্ত:

বাঙালির পছন্দের এই খাবারটি অনিদ্রা দূর করার বিষয়ে দারুনভাবে কাজে আসতে পারে। আসলে এতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম, কার্বোহাইড্রেড এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রতিদিন ঘুমতে যাওয়ার আগে নিয়ম করে ১ চামচ পোস্ত খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।

৮. বিকালের পর কফি খাওয়া চলবে না:

কলোরাডো ইউনির্ভাসিটির গবেষকদের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে বিকালের পর কফি খেলে শরীরের অন্দরে ক্যাফিনের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাবে বায়োলজিকাল ক্লক ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। ফলে ঘুম আসতে সমস্যা হয়। আর যেমনটা আপনাদের সবারই জানা আছে যে ঠিক মতো ঘুম না হলে শরীরের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পরে। আর এমনটা হতে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই নানা মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

৯. গ্রিন টি:

এতে উপস্থিত থিয়েনাইন এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড অ্যাংজাইটি এবং স্ট্রেস কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার স্ট্রেস কমে গেলেই তো কেল্লাফতে! এক্ষেত্রে শুতে যাওয়ার কম করে ১-২ ঘন্টা আগে গ্রিন টি পান করতে হবে। তবেই উপকার পাবেন।

১০. ওটমিল:

এতে রয়েছে মোলাটোনিন নামে একটি উপাদান, যা অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে থাকে। তাই ইচ্ছা হলে ডিনারে এই খাবারটি খেতেই পারেন। তাহলেই দেখবেন সারা রাত আর প্যাঁচার মতো ঘুরে বেরাতে হবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট