ঘুরে আসুন ঈদের ছুটিতে …..

ঘুরে আসুন ঈদের ছুটিতে …..

ছুটি মানেই বেড়াতে যাওয়া। তাই ভ্রমণ পাগলদের কাছে এটাই হাই টাইম। গাড়ি বুকিং, হোটেল বুকিং, কেনাকাটা সবই চলছে পুরোদমে।

ঈদের দিনে আনন্দ আর খাওয়া-দাওয়া নিয়ে সবাই খুব বেশি ব্যস্ত থাকে। এই দিন কয়টা শেষ হলে আবার কাজে ফিরে যেতে হবে। তাই এ আমেজ ভাবটা কাটিয়ে ওঠার আগেই কিছু একটা করা উচিত। মনকে আরো একটু চাঙ্গা করে নেয়ার ইচ্ছাটা সবার মধ্যেই থাকে। শহর ছেড়ে দূরে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনাটা তাই অনেকাংশে বেশি প্রযোজ্য।

ঈদের ছুটিতে এক সঙ্গে দুটো কাজ হয়ে যাচ্ছে  প্রথমত, নতুনভাবে আবার নিজেকে উদ্যমী করে তোলা। দ্বিতীয়ত, প্রিয় মানুষকে সময় দেয়া এবং তাদের সঙ্গে আরো কিছু নতুন স্মৃতি যুক্ত করা। আনন্দময় মুহূর্তগুলোকে শত বছর পরেও মনের ফ্রেমে বন্দি করে রাখা।

তাই আপনি পরিবারের সঙ্গে অথবা বন্ধুদের সঙ্গে একটু খোলা পরিবেশে ঘুরে আসাতে পারেন। সে জন্য সব যান্ত্রিকতা ভুলে চলে যেতে পারেন প্রকৃতির খুব কাছে। এ যেন নীল আকাশটাকে ছুঁয়ে দিয়ে রঙিন কিছু ভাবতে বসা আর প্রজাপতির মতো ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো।

যারা প্রকৃতি প্রেমিক তাদের জন্য : জলের মধ্যে অবিরাম সাঁতার কেটে যাওয়া। বিকালের পড়ন্ত সূর্যটাকে নীল আকাশের মধ্যে খুঁজে পাওয়া। এসব উপভোগ করতে কার না ইচ্ছা করে। সকালের কোমল সূর্যের পরশে নিজেকে জুড়িয়ে নিতে পারেন। সবই সম্ভব হবে যদি চলে আসতে পারেন ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। যেখানে জোয়ার-ভাটার খেলা চলে প্রতিনিয়ত। পাহাড়ের সঙ্গে রুপালি ঢেউয়ের মেলা যেন উত্তেজনা দ্বিগুণমাত্রায় বাড়িয়ে তোলে। রাতের চাঁদ আর তারা ভরা আকাশ দেখে যারা রোমাঞ্চিত হয়ে পড়েন তাদের জন্য এ জায়গা খুব উপযুক্ত। বেছে নিতে পারেন সৈকতে একদম পাশে অবস্থিত কোনো হোটেল। কক্সবাজার মধ্যে হিমছড়ি, রামু, সোনাদ্বীপ, মহেশখালি, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন আকর্ষণীয় জায়গা। নারী-পুরুষের আরো একটি অন্যতম প্রিয় গন্তব্যস্থল হচ্ছে_ রাঙামাটি। এখানে রয়েছে মনমুগ্ধ করা প্রাকৃতিক দৃশ্য, হ্রদ, উপজাতি ও উপজাতীয় যাদুঘর, ঝুলন্ত সেতু, দেশি টেক্সটাইল পণ্য, উপজাতীয় ফ্যাশন ও গহনা। উপজাতীয় জীবন, মাছ শিকার, নৌকা চালনা সবকিছু যেন এখানকার সৌন্দর্যকে অনেক উপভোগ্য করে তুলেছে। এছাড়া কিছু সৌন্দর্যম-িত জায়গার কথা না বললেই নয়_ সুভলং, বারকাল, লঙ্গাদু, মাইনিমুখ। ঈদের সময়টাকে যদি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে গুছিয়ে নিতে চান, তাহলে বেছে নিতে পারেন ভ্রমণ প্যাকেজ। এসব প্যাকেজে রয়েছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা।

যারা অ্যাডভেঞ্চার প্রেমিক তাদের জন্য : দুঃসাহসিক কাজ করার বা দেখার শখ যাদের আছে, তাদের জন্য বান্দরবন একদম জুতসুই জায়গা। পাহাড় বেয়ে ওপরে ওঠা-নামার কাজটা যেহেতু খুব কৌশলের তাই সবাই পেরে উঠতে পারে না। ঢাকা থেকে বান্দরবনের দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটার। নরমাল বা এয়ার কন্ডিশনারচালিত বাসে উঠলেই নিশ্চিন্তে পেঁৗছে যাবেন বান্দরবন। সেখানকার চিম্বুক পাহাড় দেখার আগ্রহ সবার মধ্যেই রয়েছে। কারণ, ৩৮০০ ফুট উঁচু থেকে সাঙ্গু নদী অসাধারণ দৃশ্য। সেই সঙ্গে ভূম উপজাতীয? গ্রামটাকে এক পলকে দেখে নেয়া যায়। যদি কারো কেওকারাডং পাহাড়ের পথ চেনার ইচ্ছা থাকে, তবে সাঙ্গ নদী দিয়ে রুমা ঘাট আসতে হবে। তারপর রুমা বাজার থেকে জিপ গাড়ি নিয়ে আসতে হবে পাহাড়ি রাস্তা ধরে। পায়ে হেঁটে পাহাড়ি রাস্তা অনুসরণ করে আপনি পৌঁছে যাবেন ‘বগা লেক’। লেক থেকে দীর্ঘ ৪-৫ ঘণ্টা হাঁটার পথ অতিক্রম করলে কেওকারাডঙের দেখা পাবেন। এ সময় উপজাতীয় কিছু গ্রাম চোখে পড়বে_ দার্জিলিং পাড়া, কনান পাড়া, পাসসিং পাড়া। আরো দেখতে পাবেন ছোট-বড় সব ঝরনা। জাদিপাই নামক ঝরনাটি সত্যি দেখার মতো। দিনগুলোকে আরো দুঃসাহসিক করতে চাইলে আসতে পারেন সুন্দরবন। প্রতিবছর দেশি ও বিদেশি হাজার হাজার মানুষ সুন্দরবন পরিদর্শনে আসে। বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী এ জায়গার মূল আকর্ষণ। দেখার জন্য হরিণ প্রজনন কেন্দ্র এবং পুরো অভয়ারণ্যজুড়ে রয়েছে সুক্ষম প্রাণী যা লোকালয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। ৩৮ হাজার ৫০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে এই বিস্তীর্ণ এলাকা। তাই সম্পূর্ণটা ঘুরে দেখতে চাইলে ফরেস্ট অফিসারের অনুমতি নিতে হয়। এলাকায় সব প্রাণীর শান্তিপূর্ণ বসবাসের লক্ষ্যে শিকার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। করমজল সুন্দরবনের এক চমৎকার জায়গা, এটিই বনের প্রবেশ। আসতে হলে এ পথটি ধরে অগ্রসর হতে হবে। ঘাটে উঠে চোখে পড়বে বিশাল কাঠের ব্রিজ অন্য পাশে ছোট ছোট খাবারের দোকান। দোকানগুলোয় শুকনো খাবারসহ রয়েছে বিভিন্ন ফুলের মধু। ফুলের বিভিন্ন নাম ও স্বাদের মধ্যে রয়েছে_ খলশি, কেওড়া, বাইন ইত্যাদি। ব্রিজটির নিচে স্বচ্ছ পানির দিকে তাকালে চোখে পড়বে_ সরীসৃপ, মাছ, পোকামাকড়, নোনা জলের কুমির, বুনো শুয়োর, হাঁস, মথ। পাখিদের কলকাকলিতে মুখর সারাটা জঙ্গল। ঘুরে-ফিরে দেখলে ২৬০ প্রজাতির পাখি রয়েছে এ বনে। গাছের ডালে লতায়পাতায় জড়িয়ে আছে সাপ আর অসংখ্য বানর। খুলনা থেকে দুই পথে করমজল যাওয়া যায়। এক, সোনাডাঙ্গা থেকে বাসে করে মংলা, দুই, রূপসা থেকে মংলাবন্দর। আনুমানিক ৪৫ মিনিট লাগবে, নিজের গাড়ি ব্যবহার করলে আরো কম সময়ে পেঁৗছানো সম্ভব। তারপর ট্রলার ভাড়া করে গন্তব্যের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়া। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে করমজল গিয়ে নামতে পারবেন। আরো আছে_ কোটকা সৈকত, সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান, হিরণ পয়েন্ট, দুবলারচর দ্বীপ, তিন কণা দ্বীপ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এসব জায়গায় সৌভাগ্যক্রমে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মিলতে পারে। সুন্দরবনে আসতে এবং ফিরে যেতে ট্রলার ভাড়া করে নেয়াটাই বাঞ্ছনীয়। পারিশ্রমিকের ব্যাপারটা জায়গাপ্রতি মিটিয়ে দিতে হবে।

যারা ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চান : মসজিদের শহর বাগেরহাট। ঢাকা থেকে ২০০ মাইল দক্ষিণে এবং খুলনা থেকে পূর্ব দক্ষিণে ১৫ মাইল গেলেই এ শহর। এটি খালিফাবাদ নামে সুপরিচিত। ১৫ শতাব্দীতে তুর্কি জেনারেল উলুঘ খানজাহান শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন। পুরো শহরটাতে ইসলামী স্থাপত্য ও শৈলী স্বতন্ত্র পরিকল্পনার সঙ্গে মুঘল ও তুর্কি স্থাপত্য সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। ৩৬০টি মসজিদের মধ্যে ষাটগম্বুজ মসজিদ বেশি পরিচিত। আয়তনে ১৬০ ফুট (৪৯ মিটার) ১০৮ ফুট (৩৩ মিটার)। মসজিদের বেশিরভাগ অংশ বেলে মাটি পুড়িয়ে একপ্রকার পোড়ামাটি এবং ইট দিয়ে তৈরি করা হয়। এর ভেতর বিশাল দীঘি রয়েছে যার নাম ঠাকুর দীঘি। দীঘিতে বিশাল বড় দুটি কুমির এবং কচ্ছপ আছে। এছাড়া দেখার মতো আরো রয়েছে নয় কাটরা মসজিদ, সিঙ্গারা মসজিদ, রনভি জয়পুর মসজিদ, ছুনাখোলা মসজিদ।

যারা দেশের বাইরে যেতে চান : নেপাল নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশের জন্য বিখ্যাত। হিমালয় পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত দেশটির দক্ষিণ সীমান্তে চীন এবং উত্তর, পূর্ব ও পশিমে ভারত। দুই তারা বিশিষ্ট হোটেলে ২ দিন ৩ রাত যদি থাকতে চান তাহলে একেকজনের খরচ হবে মাত্র ২৬ হাজার টাকা। তিন তারা বিশিষ্ট হোটেলে থাকা-খাওয়া, ঘোরা-ফেরা এবং দেশে ফিরে যেতে মোট খরচ পড়বে মাত্র ২৯ হাজার টাকা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স করে কাঠমুন্ডু, তারপর সোজা হোটেলে। বৌদ্ধ মন্দির, পাশুপাতিনাথ মন্দির দর্শন, টুর গাইড সবসময় থাকবে আপনার সঙ্গে। নাগাকোট নামে পরিচিত পাহাড় থেকে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। এ পাহাড়টি রাজধানী থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে হোটেলে ফিরে আসতে ১/২ ঘণ্টা সময় লাগবে। কাঠমুন্ডু থেকে মাউন্ট এভারেস্ট, তারপর হিমালয় ঘুরে আসা খুব আকর্ষণীয় সফর হবে।

তাই আর দেরি না করে ঈদ ছুটিকে সামনে রেখে এখন থেকে নিজের অভিসন্ধিটা ঠিক করে ফেলা উচিত। গন্তব্য অনুযায়ী বেরিয়ে পড়ে, নিজের আনন্দটুকু সবার মধ্যে মেলে ধরুন।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
নিজস্ব প্রতিবেদক