ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ১১ জেলায় ১৪ জনের প্রাণ কেড়ে নিল

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ১১ জেলায় ১৪ জনের প্রাণ কেড়ে নিল

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর তাণ্ডবে সারা দেশের ১১ জেলায় ঘর ও গাছচাপা পড়ে নারীসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ২ জন, বাগেরহাটে ২ জন, পটুয়াখালী ১ জন, পিরোজপুরে ১ জন, মাদারীপুরে ১ জন, ভোলায় ১ জন, সাতক্ষীরায় ১ জন, শরীয়তপুরে ১ জন, বরিশালে ১ জন, গোপালগঞ্জে ১ জন বরগুনায় ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এছাড়া ঝড়ে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক গাছ উপড়ে পড়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার দুপুরের মধ্যে ঝড়ের সময় এসব ঘটনা ঘটে।

সাতক্ষীরা : বুলবলের তাণ্ডবের পর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় আবুল কালাম (৬০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ইউএনও জানান, আবুল কালাম শেল্টার হোম থেকে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।

মাদারীপুর : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি গ্রামে ঘরের ওপর গাছ পড়ে সালেহা বেগম (৪০) নামে এক নারী মারা গেছেন। রবিবার বেলা ৩ টার দিকে বসত ঘরের ওপর গাছ পড়ে ঘরের ভিতর আলমারির নিচে চাপা পড়ে তিনি মারা যান।

খুলনা : প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে খুলনার দিঘলিয়া ও দাকোপে গাছের নীচে চাপা পড়ে নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- প্রমিলা মণ্ডল (৫২) ও আলমগীর হোসেন (৩৫)।

জানা গেছে, দাকোপ উপজেলায় প্রমিলা মণ্ডল (৫২) নামে এক নারী ঝড়ের সময় গাছ চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া দিঘলিয়া সেনহাটি গ্রামের আলমগীর হোসেনও (৩৫) গাছ চাপায় নিহত হয়েছেন। এদিকে বুলবুলের আঘাতে কয়রা উপজেলায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি এবং দাকোপ উপজেলায় ১৭০০ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

পিরোজপুর : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের লড়া গ্রামে ঘরের উপর গাছ চাপা পড়ে ননী গোপাল মণ্ডল (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ মারা যান।রবিবার দুপুরে তিনি মারা যান। এসময় গুরুত্বর আহত হয় একই পরিবারের সুমী (৮) ও নাসির (১৬) নামে দুই শিশু। ওই উপজেলার ৯ নম্বর কলারদোয়ানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাসানাত ডালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া রাজৈর উপজেলায় গাছে নিচে পড়ে ৬ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে চৌহদ্দি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম ভেঙ্গে গেছে।

পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় হামেদ ফকির (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। পেশায় তিনি ছিলেন একজন মৎস্যজীবী। শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেন জানান।

ভোলা : ভোলায় ঘূর্ণিঝড়ে ট্রলার ডুবে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, ইলিশা এলাকার মেঘনা নদীতে ২৪ জন জেলে নিয়ে একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জন জেলে জীবিত উদ্ধার ও ১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৩ জন জেলে।

বুলবুলের আঘাতে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গোটা জেলায় ভারি বৃষ্টি এবং ঝড়ো বাতাস বইছিল। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। উপড়ে গেছে বিদ্যুতের খুঁটি। বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অতি বৃষ্টির কারণে ভোলার সদরের ইলিশা ব্রিকস, রিয়াদ ব্রিকস, মায়ের দোয়া ব্রিকস, সাবাব ব্রিকসসহ ৬৩টি ফিল্ডের কয়েক লাখ কাঁচা ইট গলে গিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

শরীয়তপুর : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ঘরের উপর গাছ পড়ে মো. আলী বক্স ছৈয়াল (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। রবিবার বিকালে নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের দেওজড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে নড়িয়া থানার ওসি হাফিজুদ্দিন জানিয়েছেন।

ব‌রিশাল : রবিবার বিকাল ৩টার দিকে ব‌রিশালের উজিরপুর উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র আঘাতে ঘরচাপা পড়ে আশালতা মজুমদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা মারা যান। উজিরপু‌র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার মৃত্যুর বিষয়টি নি‌শ্চিত করে জানান, বৃদ্ধা আশালতা উ‌জিরপু‌র পৌর এলাকার এক নম্বর ওয়ার্ডের দ‌ক্ষিণ মাদারসী এলাকার বাসিন্দা।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে গাছ চাপা পড়ে সেকেল হাওলাদার (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। রবিবার দুপুরে ঝড়ের সময় উপজেলার বান্ধাবাড়ি গ্রামের মৃত হাসান উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে সেকেল হাওলাদার গাছচাপা পড়ে মারা যান।

এছাড়া শতাধিক ঘরবাড়ি, পোল্ট্রি সেট বিধ্বস্ত হয়েছে। হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেছে। মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশের গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

বরগুনা ও বামনা : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে বরগুনা সদর ও বামনা উপজেলায় দুইজন মারা গেছেন। বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিচুর রহমান জানান, বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালীয়াতলী এলাকার ডিএন কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে হালিমা খাতুন (৬৬) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি সদর উপজেলার বানাই গ্রামে। হালিমা খাতুন নামের ওই নারী অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন বলে তিনি জানান।

এছাড়া বামনা উপজেলার উত্তর কাকচিড়া গ্রামে ঝড়ের আতঙ্কে শিশীর বিশ্বাস (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঝড়ের সময় ছুটাছুটি করতে গিয়ে আহত হয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক লোকজন।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট