‘জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনই আওয়ামী লীগের একমাত্র লক্ষ্য’

‘জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনই আওয়ামী লীগের একমাত্র লক্ষ্য’

উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে জনগণ নিজেদের ভাগ্য গড়ার সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জনগণ তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারবে। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনই আওয়ামী লীগের একমাত্র লক্ষ্য।’

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা-২০১৮ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি উন্নয়ন মেলা তরুণদের জন্য উৎসর্গ করছি। তরুণরা উন্নয়নের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও মাদক দমন করে দেশকে যেন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশকে একটা সময় বাজেট দিতে অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হতো। আজ নিজের টাকার বাজেট দিচ্ছে। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন। শুধু স্বয়ংসম্পন্ন-ই নয়, উদ্বৃত্ত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্প, বিনিয়োগ সবক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ আমরা ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। উন্নত শিক্ষা গ্রহণ করে তারা যেন দেশে ও বিদেশে সুনাম অর্জন করতে পারে, আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার যেন কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য আমরা ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে কেউ পিছিয়ে থাকুক সেটা আমরা চাই না। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি ও গণিত এই তিন বিষয়ে অনলাইনে যেন শিক্ষা পায় আমরা সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাতৃত্বকালীন ভাতা দিচ্ছি। বিধবা ও বয়স্কদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্যও আমরা ভাতার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লক্ষ্য দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই ধারা যেন অব্যাহত থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল তারা দেশের উন্নয়ন না করে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন করেছিল। আর আওয়ামী লীগের লক্ষ্য দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবো। আমরা এমন ভাবে উদযাপন করতে চাই সে সময় বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্য মুক্ত দেশ। ২০২১ সাল আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফলাফল পর্যালোচনা করে তাদের জন্য একটা উপহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাদের বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত বিষয়ক ‘অনলাইন ডিজিটাল পাঠ সহায়িকা’র ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনলাইনে এই বিষয় সম্পর্কে তারা শিক্ষা নিতে পারবে।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে উন্নয়ন মেলা এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা, ইংরেজি ও অংক বিষয়ে অনলাইনে ডিজিটাল পাঠ সহায়িকার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান এবং নতুন প্রজন্ম যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। ১০ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর জন্য ডিজিটাল পাঠ সহায়িকা চালু করা হয়েছে।

এসময় সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ থকে দূরে থেকে নিজেদের গড়ে তুলতে তরুণদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা-২০১৮’ প্রতিপাদ্য ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ’। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। মেলা প্রতদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট