জমে উঠেছে ‘গরীবের ঈদ বাজার’

জমে উঠেছে ‘গরীবের ঈদ বাজার’

বাংলায় প্রবাদ আছে, সাধ আছে সাধ্য নেই। এই সাধ্যের মধ্যে ঈদের কেনা কাটার  আনন্দটুকু খুঁজে নিতে রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাতে ভিড় জমাচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষগুলো। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল মার্কেটগুলোর দামের তেজে নিম্নআয়ের মানুষগুলো দাঁড়িয়েছেন ফুটপাতের ঈদ বাজারে। শরীরে কোমল ঠাণ্ডা বাতাসের পরশ নিয়ে যখন বড় বড় বিপণিবিতানগুলোতে উচ্চবিত্তরা ঈদের বাজার করছে , তখন সড়কের পাশের ফুটপাতে দোকানগুলোতে সাধ্যের মধ্যে গরীবের পোশাকের চাহিদা মেটাচ্ছে।

তাই রমজানের শেষভাগে রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। ঈদের কেনা কাটা করতে আসা ফরিদা বেগম পেশায় একজন শ্রমিক । তিনি বলে আমরা তো ধনী মানুষ না। তাই বড়লোকদের মতো বড় মার্কেটে গিয়ে ঈদ বাজার করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা যে গরীব এটাতো আর বাচ্চারা বুঝবে না। তাই বাচ্চাদের বুঝ দিতে আমাদের সাধ্যানুযায়ী এই ফুটপাত থেকেই কেনাকাটা করছি। কি কিনছেন জানতে চাইলে বলেন, দুই ছেলের জন্য পাঞ্জাবি কিনছি আর মেয়ের জন্য একটা কামিজ কিনছি। আর বাচ্চার বাবার জন্য কিনতে চেয়েছিলাম কিন্তু উনি কিনবেন না। আপনার জন্য কিছু কেনেননি- প্রশ্ন করলে ফরিদা বলেন, আমার আছে।  আমিতো ঈদের দিন কোথাও যাব না ঘরেই থাকব। বাচ্চারা খুশি হলেই আমরা খুশি।

ঈদের বাকি হাতে গোনা কয়েকটাদিন তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। কারণ কেনাকাটায় ধনী-গরীবের পার্থক্য থাকলেও ঈদের আনন্দ সবার কাছে সমান। ঈদকে সামনে রেখে নিম্নআয়ের মানুষগুলো এখন সাধ্যানুযায়ী সন্তান ও পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। আর দাম কম হওয়ার কারণে তাদের প্রথম পছন্দ ফুটপাতের মার্কেটগুলো। তাই তাদের কাছে  ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাই রয়েছেন এগিয়ে।

গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের আশপাশের অনেক সড়কগুলো এখন মিনি ঈদ মার্কেটে রূপ নিয়েছে। স্বল্প আয়ের মানুষগুলো ঘুরে ঘুরে দেখে যাচাই বাছাই করে পছন্দের পোশাকটি কিনছেন প্রিয়জনের জন্য। দেরিতে হলেও রমজানের শেষ প্রান্তে এসে ক্রেতাদের ভিড়ে হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে।

ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা দোকানগুলোতে নানা রঙের পোশাক সাজিয়েছেন। সব সময়ই ক্রেতাদের ভিড় লেগে আছে। কাঠের চৌকির উপর মেলে রেখেছে , কেউ তারের ওপর, কেউ দড়ির ওপর, কেউবা হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রেখেছেন বিভিন্ন রঙ আর ডিজাইনের পোশাক। এখানে ১শ’ থেকে ৫শ’ টাকার মধ্যেই মিলছে শিশুদের পোশাক। বড়দের জন্য রয়েছে শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট। মেয়েদের জন্য রয়েছে ফ্রক, লেহেঙ্গা, ডিভাইডার টপস।  ফ্যাশনের বাহারি পোশাকের যেনো কোনো কমতি নেই এখানেও।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাচ্চাদের কাপড়ের চাহিদা বেশি। অভিভাবকরা নিজেদের চেয়ে বাচ্চাদের প্রতি গুরুত্ব বেশি দেন তাই বাচ্চাদের কাপড় বেশি চলছে। এ ব্যাপারে গুলিস্তানের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, তার দোকানে নবাজাতক থেকে ১২ বছরের বাচ্চাদের কাপড় পাওয়া যায়। ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে বেচা কেনা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে ।

তাই সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাকটি কিনতে নগরীর ফুটপাতে সারাদিন রিক্সা চালিয়ে রাতে দুই মেয়ে এক ছেলের জন্য ঈদের নতুন জামা কিনতে এসেছেন নুরুল মিয়া মেয়েদের জন্য জামা আর ছেলের জন্য শার্ট প্যান্ট কিনেছে। তিনি বলেন, এখানে অনেক কম দাম এবং ভাল জিনিস পাওয়া যায় তাই এখান থেকে কিনেছি ।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ফুটপাতে দিনে অনেক গরমের কারণে মানুষের ভিড় কম থাকলে ও সন্ধ্যার পর ভিড় জমাচ্ছে ফুটপাতগুলোতে। সারা দিনের ক্লান্তিময় কাজের শেষে রাতে ঈদের কেনা কাটা করতে আসছে অনেকে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ভিড় বাড়ছে গভীর রাত পর্যন্ত।

এক দোকানদারের সাথে কথা বলে জানা গেল তাদের ব্যবসার কথা। তিনি বলেন, ‘রমজানের শেষের দিকে আমাদের ব্যবসা অনেক ভালোই হচ্ছে। ঈদে নতুন জামা-কাপড় কিনতে ক্রেতারা অনেক বেশি ভিড় জমাচ্ছে। জামা-কাপড়ের দাম তেমন একটা বেশি না , এখানে অনেক কম মূল্যে কাপড় পাওয়া যায়’।

দামের দিক দিয়ে অনেক কম ছোটদের টি-শার্ট ১৫০ থেকে ২৫০  টাকা পযর্ন্ত বিক্রি হচ্ছে। বড়দের টি-শার্টও একই দামে পাওয়া যাচ্ছে। ছোটদের শার্ট ২০০ থেকে ৪০০ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাচ্চাদের প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে ৩০০-৪০০  টাকায় এবং । বড়দের প্যান্টের সর্বনিম্ন মূল্য হল ৪০০ টাকা সব্বোর্চ ৬০০ । বড়দের শার্ট পাওযা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচায় । ছোটদের ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকার পযর্ন্ত পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বড়দের পাঞ্জাবির দাম একটু বেশি ৩০০ থেকে ৫৫০ মধ্যে পাওয়া যায়। মেয়েদের জামা ৫০০ থকে ১০০০ টাকার।

ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে নতুন জামা আর দেশের দরিদ্র ও শ্রমিক মানুষেরা পরিবারের সাথে সাধ্যের মধ্যে নতুন জামার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারছে ফুটপাতের মার্কেটগুলোর কারণে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট