জাতীয় কবির ১১৭ তম জন্মবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবির ১১৭ তম জন্মবার্ষিকী আজ

আজ বুধবার ১১ জ্যৈষ্ঠ, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭ তম জন্মবার্ষিকী। দ্রোহ প্রেম সাম্য ও মানবতার কবির জন্মবার্ষিকীর দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসায় উদযাপন করছে জাতি।

সকালে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী আয়োজন। এই বছর মূল আয়োজন হবে নজরুলের অন্যতম স্মৃতি বিজড়িত স্থান চট্টগ্রামে। এই প্রথম রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামে জাতীয় পর্যায়ে নজরুলের জন্মবার্ষিকী পালনের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এই বছর জাতীয় কবির ১১৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়েছে ‘সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতা রোধে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা’। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে বেলা ১১টায় এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হবে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পরে তা বাতিল করা হয়।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে, বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে তার জন্ম। তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। নজরুলের নাম কাজী ফকির আহমেদ এবং মা জাহেদা খাতুন।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি।

নজরুল তার একটি গানে লিখেছেন, ‘মসজিদেরই পাশে আমায়, কবর দিও ভাই/যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই।’ কবির সেই শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করা হয়।

বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানসূচক ডি’লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেন। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলের নেতা, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আমাদের কর্ম, চিন্তা ও মননে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবিনশ্বর উপস্থিতি বাঙালি জাতির প্রাণশক্তিকে উজ্জীবিত রাখবে। তরুণ সমাজকে শৃঙ্খল ভেঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে এবং অজানাকে জয় করতে তিনি (নজরুল) পথ দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় কবি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখতেন, তা বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ করছি।’

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক