জেনে নিন সাধারণ শসার অসাধারণ গুনাগুণ

জেনে নিন সাধারণ শসার অসাধারণ গুনাগুণ

শসাকে সবার মাঝে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই, কিন্তু এর পুষ্টি গুন ও স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেকেরই জানা নেই। শসা হচ্ছে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি চাষ করা সবজির মাঝে চতুর্থ। এটি আমাদের শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো একটি খাবার এবং একে সুপারফুডও বলা হয়ে থাকে। তবে অনেক সময় শসার উৎপাদনে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তাই সব চেয়ে ভালো হয় অর্গানিক শসা খেতে পারলে।তাহলে চলুন জেনে নেই শসার দারুন কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা-

দ্রুত সতেজতা আনতে: শসা ভিটামিন বি এর খুব ভালো একটি উৎস যা আমাদের মেজাজ ভালো করতে ও মস্তিস্কের কাজের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি মন ভালো করতে চান তাহলে চা বা কফির সাথে এক টুকরো শসা খেয়ে নিন।

শরীরকে আর্দ্র ও দৈনিক ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে: শসাতে ৯০% পানি রয়েছে। তাই এটা বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশন করে শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। শসাতে শরীরের দৈনিক প্রয়োজনীয় সব ধরনের ভিটামিন আছে। এছাড়া শসার খোসাতেও রয়েছে ভিটামিন সি যা আমাদের দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় ১০% মিটাতে সক্ষম।

ত্বক ও চুলের যত্নে: শসার খোসার পেস্ট আপনি চাইলে অ্যালোভেরার মতো সানবার্ন বা ত্বকের চুলকানি সারাতে ব্যবহার করতে পারেন। চোখের ফোলাভাব কমাতে এক ফালি শসা চোখে দিতে পারেন ফলে ফোলা ভাব কমে যাবে। এছাড়া শসাতে থাকা সিলিকন ও সালফার চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে: শসাতে রয়েছে lariciresinol, pinoresinol, and secoisolariciresinol নামক রাসায়নিক যৌগ। এই তিনটি রাসায়নিক যৌগের গবেষণার ইতিহাসে রয়েছে যে এরা বেশ কিছু ধরনের ক্যান্সার যেমন স্তন, অভারিয়ান, জরায়ু, প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

গৃহস্থালি কাজে: গোসলের সময় বাথরুমে থাকা অনেক সময় আয়না ঘোলা হয়ে যায়। তাই গোসলের আগে এক টুকরো শসা নিয়ে আয়নায় ঘষে নিলে আর ঘোলা হবে না। অনেক সময় দরজায় বিরক্তিকর শব্দ হয়, একটুকরো শসা নিয়ে দরজার কব্জায় ঘষে দিলে কোন ধরনের ক্যামিকেল ব্যবহার ছাড়াই শব্দ চলে যাবে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে: এক স্লাইস শসা নিয়ে মুখের ভেতরের তালুতে রেখে জিহ্বা দিয়ে ৩০ সেকেন্ড চেপে ধরে রাখলে শসাতে থাকা ফাইটোক্যামিকেল মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে ধংস করে ফেলে।

মাথা ব্যাথা দূর করতে: মাথা ব্যাথা বা ভার হয়ে থাকা দূর করতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক টুকরো শসা খেতে পারেন। শশাতে থাকা শর্করা, বি ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে ভরপুর ইলেক্ট্রোলাইট মাথা ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে এবং হজমে সহায়তা করে: শসা কম ক্যালরিযুক্ত এবং পানিতে ভরপুর থাকার কারনে যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য এটি খুব ভালো। উচ্চ মাত্রার খাদ্যআঁশ ও পানি থাকার কারনে তা দেহের পাকস্থলির বিষাক্ততা দূর করে হজমশক্তিকে উন্নত করে। নিয়মিত শসা খাওয়ার ফলে তা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ভালো কাজ করে।

ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে: শসাতে থাকা অগ্নাশয়ের কোষে ইনসুলিন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় একটি হরমোন ডায়াবেটিসের জন্য বেশ উপকারী বলে জানা গেছে। এছাড়া গবেষণায় পাওয়া যায় যে শসাতে থাকা স্ট্রেরল নামক একটি পদার্থ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। শসাতে প্রচুর পরিমানে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও খাদ্য আঁশ আছে যা রক্তচাপ কমাতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তাই এই শসা উচ্চ রক্তচাপ এবং নিম্ন রক্তচাপ দুইটির জন্যই ভালো।

হাড়ের জয়েন্ট ভালো রাখতে,বাতের ও আর্থ্রাইটিসের ব্যাথা দূর করতে: শসা সিলিকার খুব ভালো উৎস যা সংযোজক কলাকে সুদৃঢ় করে হাড়ের জয়েন্ট ভালো রাখে। এছাড়া শসাতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১, বি৬, সি ও ডি, ফোলেট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম। গাজরের জুসের সাথে শসা মিশিয়ে খেলে তা ইউরিক এসিড কমাতে সাহায্য করে যার ফলে বাতের ও আর্থ্রাইটিসের ব্যাথা দূর হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট