জেলখানায় আদালত কাঙ্ক্ষিত নয়- ড. কামাল হোসেন

জেলখানায় আদালত কাঙ্ক্ষিত নয়- ড. কামাল হোসেন

নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান প্রণেতা. গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, জেলখানায় আদালত কাঙ্ক্ষিত নয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আইনজীবী সমিতি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, কোন কারণে জেলের ভেতর এত নাটক করা হচ্ছে? বেসামরিক সময়ের তথাকথিত জেলখানায় আদালত কাঙ্ক্ষিত নয়।

তিনি বলেন, সামরিক সময়ে কর্নেল তাহেরের বিচারালয় কারাগারের ভেতর স্থাপনও মানুষ ভালো চোখে দেখেনি।

ড. কামাল বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে যারা অপমানিত করছে তারা অসভ্য। তাদের বিচার একদিন হবেই।

অনুষ্ঠানে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বিএনপি নেতা ও আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বক্তব্য রাখেন।  দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসানকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ৫ বছরের কারাদন্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের দায়ের করা আরও এক মামলা তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন। সেই মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালত বসানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর থেকে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালতে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।

ড. কামাল বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীকেতো নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা দেয়া যায়না। ইতিপূর্বে কি পটভূমিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছিল আপনারা সবাই জানেন। সুষ্ঠু নির্বাচনে যাতে প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব না করে সেজন্যই এসেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারকেতো নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

ড. কামাল বলেন, জেলখানায় আদালত স্ববিরোধী। জেলখানায় জেলখানা হবে। আদালতে আদালত হবে। জেলখানা আদালত হতে পারেনা। এসব অস্বাভাবিক কাজ কেন করা হচ্ছে। এটা কেন প্রয়োজন হলো তা বুঝতে হবে। তিনি বলেন, জেলখানায় আদালত নিয়ে কত নাটকীয়তা কেন?

ড. কামাল বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। অসুস্থ ব্যক্তিকেতো হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসা দিতে হবে। এটা সংবিধানে তার স্বীকৃত অধিকার।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট