টিভি চ্যানেলের রিপোর্টে প্রশ্নবিধ জিপিএ-৫!    

টিভি চ্যানেলের রিপোর্টে প্রশ্নবিধ জিপিএ-৫!    

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির নাম জানে না এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা। জানে না, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস কতো তারিখে? অপারেশন সার্চলাইট কি? এই প্রশ্নের জবাবে এক শিক্ষার্থী বললেন, ‘অপারেশনের সময় যে লাইট জ্বালানো হয় সেটাই অপারেশন সার্চলাইট। বেসরকারী মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের এক প্রতিবেদনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকার একাধিক স্কুল থেকে এ প্লাস পাওয়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল জিপিএ-৫ কি? বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির নাম কি? স্বাধীনতা দিবস কতো তারিখে? বিজয় দিবস কতো তারিখে? উত্তর দিতে পারেন নি জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবীরা।

এ নিয়ে আবারো প্রশ্ন উঠেছে দেশের শিক্ষার মান নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীরা কি সত্যিই মেধাবী? জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিয়ে আগেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। আনোয়ার হোসেনের এই প্রতিবেদনটি যেন সেই প্রশ্নটি আবারো সামনে নিয়ে এসেছে।

আনোয়ার হোসেন জানান, ‘ঢাকার ৬টি স্কুল থেকে এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরকে বেশ কিছু প্রশ্ন করেছি। স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে তাদের বন্ধুদের নিয়ে আসতে বলেছি। তাদের প্রায় সবাইকে কমন কিছু প্রশ্ন করেছি। কিন্তু তারা খুবই হতাশাজনক উত্তর দিয়েছে।’

বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘বিজ্ঞানের ছাত্র বলে বাংলা কিংবা সাধারণ জ্ঞান কম পড়া হয়। এজন্য শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ কোথায় তিনি জানেন না। এ প্রসঙ্গে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান জানান, ‘বিজ্ঞানের ছাত্র বলে সাধারণ জ্ঞান পড়বে না এটা ঠিক নয়। এতে করে শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা পাচ্ছে না।’

মাছরাঙার সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন জানান, ‘শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ক্লাসের ব্যাপারে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কম্পিউটারে তোমরা কি করো? তারা জানিয়েছে, কম্পিউটারে ফেসবুক, গান শোনার জন্যই ব্যবহার করে। হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার কি শিক্ষার্থীরা জানে না।’

শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল জানান, ‘শিক্ষার্থীদের হাতে জিপিএ-৫ তুলে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এটা অর্জন করছে না। ফলে আমাদের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, মান বাড়ছে না।’

আনোয়ার হোসেনের এই প্রতিবেদনটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়েছে। শহীদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ ফেসবুকে লিখেন, ‘অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী অপারেশন সার্চলাইট বলতে কী বোঝায় তা বলতে পারেন না। সাহস করে তারপরও এক ছাত্রী বলেছেন, অপারেশনের সময় যে লাইটটি ব্যবহার করা হয় তাকেই অপারেশন সার্চলাইট বলে। সেই ছাত্রীকে আমার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। আপনি আগামী বাংলাদেশের বাঘের বাচ্চা। বাঘাবী।’

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট