টেস্টের হতাশা কাটিয়ে ওয়ানডেতে লড়াইয়ের প্রত্যয় টাইগারদের

টেস্টের হতাশা কাটিয়ে ওয়ানডেতে লড়াইয়ের প্রত্যয় টাইগারদের

 

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দুঃস্বপ্নের হোয়াইটওয়াশ। তাও একাধিক লজ্জার রেকর্ড গড়ে হার দেখে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দল। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে। আজ গায়ানায় মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামছে টাইগাররা। এ লড়াইয়ে মুখোমুখি হওয়ার আগে দলের সামনে বড় হয়ে আসছে টেস্ট হারের ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা। ওয়ানডেতেও ব্যাটিংয়ে একই রূপে দেখা যাবে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীমদের নাকি ঘুরে দাঁড়িয়ে ভোলাবে লজ্জা? অবশ্য মূল লড়াইয়ের আগে ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ আত্মবিশ্বাস পেয়েছে মাশরাফির দল।

প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাইস চ্যান্সেলর একাদশের বিপক্ষে পেয়েছে দারুণ এক জয়। ওই ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলে খেলেছেন ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেলের মতো শীর্ষ ক্রিকেটাররা। ম্যাচ শেষে ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস বলেন, ‘ওয়ানডে সিরিজের আগে আমাদের প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করাটা ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচ থেকে আমরা ভালো কিছু নিতে পেরেছি। যা আমাদের সিরিজে কাজে লাগবে। সব মিলিয়ে এই ম্যাচে আমরা দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। আমরা এই জয়ের অনুপ্রেরণা নিয়ে ওয়ানডে সিরিজে খেলবো। নিশ্চিতভাবেই এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস দেবে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ২০০৯ ছাড়া দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে কোনো সুখস্মৃতি নেই বাংলাদেশ দলের। সেবার ওয়ানডে সিরিজই জিতেনি ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশও করেছিল টাইগাররা। ২০০৪ থেকে এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিনটি দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে সবশেষ ২০১৪তেও হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফেরে। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৮ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে জয় এসেছে মাত্র ৭টি। এর মধ্যে সবশেষ জয় এসেছে ২০১২তে বাংলাদেশের মাটিতে। বলতে গেলে এরপর ৫০ ওভারের ফরমেটে দেখা হয়েছে মাত্র ৩ বার। যার সবক’টিতেই হার দেখেছে টাইগাররা। প্রায় ছয় বছর পর আজ তাই মাশরাফির দলের জন্য চ্যালেঞ্জটাই ভিন্ন।

টেস্টে দলের জন্য আতঙ্কের নাম ছিল সবুজ উইকেট। অ্যান্টিগা ও জ্যামাইকাতে ক্যারিবীয় পেসারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি দল। যদিও একই উইকেটে সাফল্য দেখেনি বাংলাদেশের পেসাররা। তবে শেষ টেস্টে স্পিনাররা ঠিকই সফল ছিল। এমনকি ওয়ানডের প্রস্তুতি ম্যাচেও সফল স্পিনাররাই। পার্টটাইম অফস্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১০ ওভারের স্পেলে মাত্র ১৪ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। তবে দলের পেস আক্রমণের মূল ভরসা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে দলে যোগ দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমানও। দেশের মাটিতে তিনি শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে নিজেকে ফিট প্রমাণ করেই গেছেন। যদি তিন পেসার নিয়ে খেলে তরুণ আবু জায়েদের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ রুবেল টেস্টে নিজেকে সেইভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর সাকিব থাকায় স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে মিরাজকে একাদশে সুযোগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে মূল চিন্তা ব্যাটিং নিয়ে। ভালো করতে হলে অবশ্য তামিম ইকবালকে দায়িত্ব নিতে হবে দলের ওপেনিংয়ে। তবে তার সঙ্গী হিসেবে লিটন কুমার প্রস্তুতি ম্যাচে ফিফটি হাঁকিয়ে দলের জন্য দারুণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়াও তিনে নাজমুল হোসেন, চারে মুশফিক, পাঁচে সাকিব, ছয়ে মাহমুদুল্লাহ খেলবেন। মোসাদ্দেককে সাতে খেলালে মিরাজের না খেলার সম্ভাবনাই বেশি। আটে অধিনায়ক মাশরাফি তো আছেনই। তবে ঘুরে দাঁড়াতে হলে তিন বিভাগেই দারুণ করতে হবে দলকে।

বাংলাদেশ ওয়ানডে দল : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার রনি ও আবু জায়েদ চৌধুরি রাহি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল : জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), দেবেন্দ্র বিশু, ক্রিস গেইল, শিমরন হেটমায়ার, শাই হোপ, আলজারি জোসেফ, এভিন লুইস, জেসন মোহাম্মদ, অ্যাশলে নার্স, কেমো পল, কাইরান পাওয়েল, রোভম্যান পাওয়েল ও আন্দ্রে রাসেল।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট