ট্রাম্প-পুতিন গোপনে কথা! তোলপাড় বিশ্ব

ট্রাম্প-পুতিন গোপনে কথা! তোলপাড় বিশ্ব

দু’দেশের সম্পর্ক তেমন উষ্ণ ছিল না কোনও দিনই। কিন্তু ইদানীং দুই প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে জল্পনার শেষ নেই। চলতি মাসের গোড়ায় জার্মানির হামবুর্গে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে দেখা হয়েছিল দু’জনের। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়েছিল প্রায় আড়াই ঘণ্টা। সংবাদমাধ্যমের এতটা জানা ছিল এত দিন। যেটা জানা ছিল না, সেটা হল ওই আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছাড়াও জি-২০ সম্মেলন চলাকালীন ভ্লাদিমির পুতিন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প একান্ত ভাবে কথা বলেছেন একে অপরের সঙ্গে। বৈঠকের বিষয়বস্তু কী ছিল, তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে দু’জনের সেই একান্ত আলাপের কথা মেনে নিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং হোয়াইট হাউসও।

ইউরেশিয়া নামে এক সংগঠনের ডিরেক্টর ইয়ান ব্রেমার কাল ওই গোপন বৈঠকের কথা জানিয়েছেন। তিনি নিজে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন। তবে যে নৈশভোজে ট্রাম্প-পুতিনের কথা হয়েছিল, সেখানে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী ব্রেমারকে এ কথা জানিয়েছেন। কী নিয়ে সে দিন ওই দুই রাষ্ট্রনেতার কথা হয়েছিল, তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে হোয়াইট হাউস। কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি মস্কোও। বিষয়টি নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা বিশ্ব।

হামবুর্গে ২০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও তাঁদের স্বামী বা স্ত্রীদের এক আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে ডেকেছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল। সেখানেই সেই গোপন বৈঠক হয় বলে খবর। ব্রেমার জানিয়েছেন, পুতিনের পাশে বসেছিলেন ট্রাম্প-পত্নী মেলানিয়া। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বসেছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রীয়ের পাশে। নৈশভোজ চলাকালীন হঠাৎই নাকি বাকি সকলকে পাশ কাটিয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে চলে যান ট্রাম্প। যে হেতু ট্রাম্পের একেবারে কাছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাশে ছিলেন এক জাপানি দোভাষী। পুতিনের পাশে গিয়ে তাই রুশ দোভাষীর সাহায্য চান ট্রাম্প। প্রায় এক ঘণ্টা চলে সেই গোপন এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে এমনিতেই একাধিক তদন্ত চলছে আমেরিকায়। প্রেসিডেন্টের গদিতে ট্রাম্প বসার পরে পুতিনের সঙ্গে তাঁর যত বারই কথা হয়েছে, তত বারই নির্বাচন প্রসঙ্গ ঘুরে-ফিরে এসেছে। হামবুর্গ থেকে ফিরে এসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি একাধিক বার বিষয়টি নিয়ে পুতিনকে প্রশ্ন করেছিলেন। পুতিন প্রতিবারই না বলে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

হোয়াইট হাউস একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘ডিনারের পরে ওই আলাপচারিতা ছিল একেবারেই অল্প সময়ের।’’ অর্থাৎ ঘুরিয়ে দ্বিতীয় বৈঠকের কথা স্বীকার করে নিয়েছে তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার যে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে সংবাদমাধ্যমে যে খবর চাউর হয়েছে, তা পুরোপুরি অসত্য। বিষয়টিকে লঘু করে দেখাতে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র মাইকেল অ্যান্টন আবার বলেছেন, ‘‘খাবারের পরে ডেজার্ট নিয়ে আলোচনাটা নিশ্চয়ই বৈঠকের পর্যায়ে পড়ে না।’’ ট্রাম্প নিজেও টুইট করেছেন। লিখেছেন, ‘‘ভুয়ো খবর ছড়াতে ছড়াতে সংবাদমাধ্যম অসৎ হয়ে উঠেছে। জার্মানিতে বিশ্বের ২০ জন শীর্ষ স্থানীয় নেতাকে নিয়ে ডাকা নৈশভোজের অনুষ্ঠানকেও এরা অশুভ আঁতাঁতের জায়গা বানিয়ে ছেড়েছে।’’

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট