ডোকা লা-য় ভারতীয় সেনা গেলে কাশ্মীরেও ঢুকতে পারে চিনা সেনা, হুমকি চিনা অধিকর্তার

ডোকা লা-য় ভারতীয় সেনা গেলে কাশ্মীরেও ঢুকতে পারে চিনা সেনা, হুমকি চিনা অধিকর্তার

ডোকা লা ইস্যুতে ফের জোড়া বিতর্ক। এক দিকে কূটনৈতিক টানাপড়েন, অন্য দিকে রাজনৈতিক জটিলতা।

এক দিকে, চিনের ওয়েস্ট নর্মাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান স্টাডিজের অধিকর্তা লং জিংচাম হুমকি দিলেন, ভারত যদি ডোকা লা-তে সেনা পাঠাতে পারে, তা হলে চিনা বাহিনীও যে কোনও দিন ঢুকবে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে। যে যুক্তিতে চিন ও ভুটানের মধ্যে বিতর্কিত এলাকা ডোকা লা-য় প্রবেশ করেছে ভারতীয় সেনা, সেই একই যুক্তিতে কাশ্মীরে চিনা সেনা ঢুকতে পারে বলেও হুমকি তাঁর। রবিবার চিনের সরকারি সংবাদপত্র ‘গ্লোবাল টাইমস’-এ এই হুমকি দিয়েছেন এই চিনা বিশেষজ্ঞ।

পাশাপাশি, সোমবার বেজিংয়ের আর একটি দাবি ভারত-চিন বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ দিন চিনা দূতাবাসের তরফে দাবি করা হয়েছে, গত শনিবার ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত লুও জাওহুই-এর সঙ্গে দেখা করেছেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধী। সম্প্রতি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করতে এই সাক্ষাৎ বলে দাবি করা হয়। এর পরই শুরু হয়েছে নয়া জল্পনা। বিষয়টিকে চিন সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রের বিকল্প পথে হদিশ বলেও কেউ কেউ দাবি করতে শুরু করেছেন। তবে সাক্ষাৎকারের সব দাবি উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রকও।

সিকিম, ভুটান ও তিব্বতের মধ্যবর্তী এলাকা ডোকা লা-য় রাস্তা তৈরি করতে চায় চিন। নয়াদিল্লির মতে, ডোকা লা ভুটানের অন্তর্ভুক্ত, ফলে সেখানে চিনের রাস্তা তৈরি ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অন্য দিকে, ডোকা লা-য় সেনা পাঠানো নিয়ে দফায় দফায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বেজিং। দিয়েছে হুমকিও। যদিও তাতে নিজেদের অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেনি নয়াদিল্লি। আর এ বার কাশ্মীরে সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়ে ফেললেন এক চিনা বিশেষজ্ঞ। একইসঙ্গে ডোকা লা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহল চিনের উপর কোনও চাপ তৈরি করতে পারবে না বলেও দাবি করেছেন জিংচাম। চিনের বিশাল বাজারকে হাতে রাখার জন্য পশ্চিমী দুনিয়া তাদের চটাবে না বলে দাবি তাঁর।

গত শুক্রবারই জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের বৈঠকের পর মনে করা হয়েছিল, সিকিম সীমান্তে টানাপড়েনের সমাধান হয়তো সম্ভব হবে। কিন্তু, গ্লোবাল টাইমস-এ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের পর দু’দেশের সম্পর্কে নয়া মাত্রা যোগ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট