ঢাবির উপাচার্য হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পেলেন আখতারুজ্জামান

ঢাবির উপাচার্য হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পেলেন আখতারুজ্জামান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে ফের নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। আগামী ৪ বছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তাকে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১১(১) ধারা মোতাবেক সিনেট কর্তৃক মনোনীত প্যানেল থেকে তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছেন।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. মো আখরুজ্জামানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আব্দুল হামিদ। ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে রাষ্ট্রপতি আখতারুজ্জামানকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন।

অদ্যাবধি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে ২০১৬ সালের ২৩ জুন থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৪ সালে কলা অনুষদের ডিন নির্বাচিত হন।

এছাড়া, গত জুলাই মাসে তিনি দি এসোসিয়েশন অব কমনওয়েল্থ ইউনিভার্সিটি (এসিইউ)-এর কাউন্সিল মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত:

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ১৯৬৪ সালের ১ জুলাই বরগুনা জেলার আজিজাবাদ উপজেলার কালিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বি এ অনার্স ও এম এ পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা ইন পার্সিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ বিষয়ক পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করেন।

তিনি ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন কলেজের ফুলব্রাইট স্কলার এবং যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো ছিলেন তিনি। ১৯৯০ সালে তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

১৯৯৫ সালের ১৫ জানুয়ারি সহকারী অধ্যাপক, ২০০০ সালের ২ জানুয়ারি সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৪ সালে তিনি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কবি জসীম উদদীন হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৯ ও ২০১১ সালে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হন।

তিনি বিভিন্ন মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা-সহায়তা ট্রাস্টের সদস্য, পাঠ্যপুস্তক সংকট নিরসন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বিতরণ পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শদান জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক, জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য, ন্যাশনাল কারিক্যুলাম কো-অর্ডিনেশন কমিটির (এনসিসিসি) সদস্য, জার্নাল অব সিরাজুল হক সেন্টার ফর ইসলামিক রিসার্চ এবং জার্নাল অব দি এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ (হিউম্যানিটিজ)-এর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ পত্রিকা “ইতিহাস”-এর সম্পাদক, এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর কাউন্সিল মেম্বার, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ-এর সাধারণ সম্পাদক, আলীগড় ওল্ড বয়েজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সাধারণ সম্পাদক, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা (ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি) পাঠ্যপুস্তকের সম্পাদক, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (নবম-দশম শ্রেণি) পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জনকারী এবং বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর আমেরিকান স্টাডিজ, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর ফুলব্রাইট স্কলার্স ও ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেসসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। দেশ-বিদেশে প্রকাশিত বিভিন্ন জার্নালে তাঁর ৪২টি গবেষণামূলক প্রবন্ধ রয়েছে।

তার প্রকাশিত পুস্তকের মধ্যে রয়েছে-মুসলিম ইতিহাসতত্ত্বা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (২০০৮); বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ : প্রেক্ষাপট ও ঘটনা (সম্পাদিত), বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ, ঢাকা (২০০৯); Society and Urbanization in Medieval Bengal, Asiatic Society of Bangladesh (2009); A Quest for Islamic Learning : Essays in Memory of Professor Serajul Haque (edited), Asiatic Society of Bangladesh (2011); প্রবন্ধ সংকলন (সম্পাদিত), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (২০১১)। অনন্য সাধারণ গবেষণার জন্য ২০০৮ সালে তিনি ‘বিচারপতি ইব্রাহিম স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট