তিস্তার অগ্রগতি ‘যথাসময়ে’ জানতে পারবেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তিস্তার অগ্রগতি ‘যথাসময়ে’ জানতে পারবেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর নিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এলে বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরে তিস্তার আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অগ্রগতি হচ্ছে, যথাসময়ে জানতে পারবেন।”

অর্ধ যুগ আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় ঝুলে যাওয়ার পর তিস্তার জট আর খোলেনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে।

নয়া দিল্লিতে পালাবদলে ক্ষমতায় আসা বিজেপির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আশা দিলেও এখনও মমতাকে রাজি করাতে পারেননি।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য তিস্তার পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে দ্বিপক্ষীয় যে কোনো বৈঠকেই ঢাকার পক্ষ থেকে নয়া দিল্লিকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও তার সাম্প্রতিক ভারত সফরে মোদির সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তোলেন। তখন মোদি বলেন, মমতাকে রাজি করাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ মে ভারত সফরে যাচ্ছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির আমন্ত্রণে তার এই সফর বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শান্তি নিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করবেন। এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাও থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

পরদিন পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেনে শেখ হাসিনা। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ‘ডি লিট’ ডিগ্রি দেওয়া হবে বলে জানান মাহমুদ আলী।

বাংলাদেশ এখন যে রোহিঙ্গা সঙ্কট সামলাচ্ছে, ভারতে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় আঞ্চলিক সমস্যার এই বিষয়টিও উঠবে।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারতে ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যে যাবে, তারা থাকবে কোথায়? বাড়ি-ঘর সব তো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অভ্যর্থনা ক্যাম্পে বড় জোর দুই- একদিন থাকতে পারে। কাজেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বাড়ি, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্কুল তৈরি করতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট