তীব্র শীতে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের জনজীবন

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের জনজীবন

উত্তরবঙ্গে জেঁকে বসেছে শীত। খুবই কষ্টে আছেন দরিদ্র শীতার্ত মানুষ। এসব দরিদ্র মানুষের প্রায় সবারই বাড়িঘর ভাঙাচোরা। তাদের কাঁচা ঘরের বেড়া দিয়ে হন হন করে হিমেল হাওয়া প্রবেশ করে। এসব মানুষের অধিকাংশই অসহায় দুর্বল। বয়সের ভারে অনেকেই কাজ করতে পারেন না। আবার অনেকের পরিবারই বড়। সেসব পরিবারের ৭-৮ জন সদস্যের একজন মাত্র আয়-রোজগার করে। সেই একজনের দিনমজুরি বা রিকশা টানার আয় দিয়ে সংসার চালানোই মুশকিল।

এ শীতে তাই ওই সব মানুষের ভীষণ কষ্ট! একটা কম্বলের আশায় তারা এখানে সেখানে ছুটে বেড়াচ্ছে। অনেকেরই লেপ কেনার সঙ্গতি নেই। কারণ লেপের দাম বেড়ে যাওয়ায়, দেড় দুই হাজার টাকার নিচে কোনো লেপ পাওয়া যায় না। দরিদ্র মানুষের পক্ষে ওই টাকা সঞ্চয় করে লেপ কেনা সম্ভব নয়।

ঠাণ্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। রংপুরের বিভিন্ন স্থানে আগুন পোহাতে গিয়ে তিন দিনে দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ৭ জন।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে তবে দিনে অপরিবর্তিত থাকবে।

পঞ্চগড়ে ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢাকা চারদিক। গতকাল তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ঠাণ্ডা বাতাস ও কনকনে শীতে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ।

রংপুর মেডিকেলে প্রতিদিনই শীতজনিত রোগে ভর্তি হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। কুড়িগ্রামে প্রচণ্ড শীতে রাস্তার পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন দরিদ্ররা।

মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় হাড়কাঁপানো শীত। এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশার কারণে নষ্ট হচ্ছে বোরো বীজতলা। এতে বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট