‘দায় পুরুষের, বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে মানবজাতি!’

‘দায় পুরুষের, বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে মানবজাতি!’

অনেক অনেক দিন আগে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ডাইনোসরের মতো প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটেছিল। এ ধরনের অনেক দুর্যোগে ধ্বংস হয়েছে কত প্রাণী! বদলে গেছে প্রকৃতি। দুর্যোগ ছাড়াও প্রাণঘাতী রোগে অসংখ্য মানুষের জীবনের ইতি ঘটেছে, ঘটে চলেছে। কিন্তু বুদ্ধি আর সাহসীকতা দিয়ে টিকে ছিল তারা, টিকে থাকবেও। এবার বোধহয় অন্য কিছু ঘোর অমানিশা হয়ে দেখা দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এমনটা চলতে থাকলে আক্ষরিক অর্থেই এবার বিলুপ্তি ঘটবে মানুষের!

পুরুষ প্রজাতির শুক্রাণুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে আসছে। আগের আমলে যেমনটা ছিল, বর্তমানে তার থেকে অনেক কম শুক্রাণু উৎপাদন হচ্ছে পুরুষের দেহে।

১৯৭৩-২০১১ সালের মধ্যে এ সংক্রান্ত অনেকগুলো গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ হাজার পুরুষের ওপর করা ১৮৫টি গবেষণা নতুন করে বিশ্লেষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাতে অন্ধকার ভবিষ্যতের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ১৯৭৩ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পুরুষের শুক্রাণুর পরিমাণ কেবল কমতির দিকেই রয়েছে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের পুরুষদের এ সমস্যা বিগত ৪০ বছর ধরে বেড়েই চলেছে।

হিউম্যান রিপ্রোডাকশন আপডেটে বলা হয়, প্রতি মিলিলিটারে শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ৫২.৪ শতাংশ। এটা ৯৯ মিলিয়ন থেকে কমে ৪৭ মিলিয়ন হয়ে গেছে। যদিও তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যায়নি। সেখানে প্রতি মিলিলিটারে ১৫-২০০ মিলিয়ন শুক্রাণুর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের হিসাবে, দৃশ্যপট খুব দ্রুত অন্ধকার হয়ে যেতে পারে। এই সংখ্যা যদি স্বাভাবিক হারে কমতে থাকে, তাহলে খুব বেশি সময় লাগবে না যখন পুরুষ জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা হারাবে।

হায়েমোসাইটোমিটার নামের এক উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, শুধু সংখ্যা কমে আসাটাই একমাত্র সমস্যা নয়, এর গুণগত মানও নিঃশেষ হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের পুরুষের শুক্রাণু সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলাফল মোটেও ভালো নয়। দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা করলে একসময় তা শেষের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন ডেনমার্কের ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ মার্টিন ব্লমবার্গ। সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট