দেশ ও জাতির কল্যাণে সশস্ত্র বাহিনীকে ভূমিকা রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশ ও জাতির কল্যাণে সশস্ত্র বাহিনীকে ভূমিকা রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশ ও জাতির কল্যাণে সশস্ত্র বাহিনীকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে সশস্ত্র বাহিনীকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক বাহিনীর গ্র্যাজুয়েটসদের সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনেরও পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এক সময় বিশ্ববাসী দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য চিনতো। তবে সে অবস্থা এখন আর নেই- জিডিপি বেড়েছে। রাস্তাঘাট উন্নতি হয়েছে- বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে।

তিনি আরো বলেন, মানুষের আয় এবং জীবনযাত্রার মানও বেড়েছে। সুনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করা ছিল সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অনেকেই যখন সেতু নির্মাণ থেকে সরে দাঁড়ায় তখন নিজস্ব অর্থায়নে সেতু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ একটি সিদ্ধান্তই বিশ্বের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছে।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য জেলার এবং সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে এ কাজে সেনাবাহিনীর সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনীও। আমরা আমাদের উন্নয়নের কার্যক্রমের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে ডিফেন্স কলেজেরও আধুনিকায়ন করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এক সময় দুর্নীতি ও দুর্যোগের দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। দারিদ্র্যের হার কমিয়ে এনেছি। মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১ হাজার ৭৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জিডিপি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হযেছি। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। দেশের ৯৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায়।’

তিনি বলেন, ‘রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।’

এ বছর ডিএসসিএসসি ২০১৮-২০১৯ কোর্সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৮ জন অফিসার, নৌবাহিনীর ২৯ জন এবং বিমানবাহিনীর ২৩ জন অফিসার গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। এছাড়া চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, সৌদি আরব, লেবানন, যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৯ দেশের ৪৫ জন অফিসার এ বছর কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী কোর্স সম্পন্নকারী অফিসারদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এ বিদ্যাপীঠ থেকে ‘পিএসসি’ ডিগ্রী অর্জন, যে কোনো সামরিক অফিসারের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।’

স্টাফ কলেজে এ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ৪৩টি, নৌবাহিনীর ৩৭টি এবং বিমানবাহিনীর ৩৯টি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সশস্ত্রবাহিনীর ৩৯০২ জন, পুলিশের ৫ জন এবং ৪২টি বন্ধুপ্রতীম দেশের ১ হাজার ১১১ জন অফিসার এ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন অর্জন করেছেন।

কলেজের সাবেক ও বর্তমান কমান্ড্যান্ট, অনুষদ সদস্যবৃন্দ ও সকল অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী গ্র্যাজুয়েট অফিসারদের বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তোমরা সমর বিজ্ঞানের ওপর উচ্চতর জ্ঞান লাভ করেছ। এ প্রশিক্ষণ অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালনে এবং যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তোমাদের আরও আত্মপ্রত্যয়ী হতে শেখাবে।’

এ বছর ১১ জন নারী অফিসারের গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা অফিসারের কোর্সে অংশগ্রহণ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আশা করি, মহিলা অফিসারদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।’
বন্ধুপ্রতিম দেশের গ্র্যাজুয়েট অফিসারদের উদ্দেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ। বৈশ্বিক শান্তির প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস আমাদের পররাষ্ট্র নীতিতেও প্রতিধ্বনিত হয়। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র হল ‘সমমর্যাদার ভিত্তিতে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ এরই ধারাবাহিকতায় আপনাদের দেশের সঙ্গে আমরা বজায় রেখেছি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।’

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট