দ্বিতীয় টেস্টেও চালকের আসনে ও.ইন্ডিজ

দ্বিতীয় টেস্টেও চালকের আসনে ও.ইন্ডিজ

গল্পটা হতে পারত অন্যরকম। সকালে সাকিব আল হাসান স্পিনের যে ফাটকা খেলেছিলেন, সেটা কাজে লাগলে বাংলাদেশের দিনয়াও হতে পারত অন্যরকম। কিন্তু সকালের সেশনে সেই চাপ আর ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের তিন উইকেটের পরও তাই দিনটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। স্যাবাইনা পার্ক টেস্টের প্রথম দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ২৯৫ রান, স্বাগতিকেরা তাই অনেকটাই এগিয়ে। সেঞ্চুরি করেছেন ক্রেইগ ব্রাথওয়েট আর তিন অঙ্কের অপেক্ষায় আছেন শিমরন হেটমেয়ার।

সকালের শুরুতেই চমকে দিয়েছিলেন সাকিব। স্যাবাইনা পার্কের উইকেটে খুব বেশি ঘাস না থাকলে সকালের সেশনটা সাহায্য করার কথা পেসারদের। কিন্তু আবু জায়েদ রাহীর প্রথম ওভারের পরেই সাকিব নিয়ে এলেন স্পিন। নিজে এলেন এক দিক থেকে, অন্য প্রান্তে মেহেদী হাসান মিরাজ। দুর্দান্ত বল করে ব্রাথওয়েট আর ডেভন স্মিথকে চেপে ধরেছিলেন, বেশ কয়েক বার বল আকাশে তুলে দিয়েও বেঁচে গেছেন দুজন। শেষ পর্যন্ত ৯ রানে প্রথম উইকেটের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজের বলটা লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে ব্যাট প্যাড হয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন স্মিথ।

বাংলাদেশ এরপরও উইকেট পেতে পারত, মিরাজ-সাকিব উইকেট থেকে প্রথম দিনেই পাচ্ছিলেন বেশ টার্নের দেখা। কিন্তু ব্রাথওয়েট আর কাইরান পাওয়েল মিলে হতাশ করে গেলেন বেশ কিছুক্ষণ। শেষ পর্যন্ত দুজনের ভেতরের দিকে ঢোকা মিরাজের একটা বলে এলবিডব্লু হয়ে গেলেন পাওয়েল, ফিরে গেলেন ২৯ রানে। ৫৯ রানে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পেল বাংলাদেশ।

এরপর তাইজুলরা এসে সেই চাপ সেভাবে আর ধরে রাখতে পারেনি। ব্রাথওয়েট আর শাই হোপ মিলে অনেকটা সময় হতাশ করে গেছেন বাংলাদেশের বোলারদের। প্রথম সেশনে আর কোনো উইকেট আসেনি। রান নেওয়ার চেয়ে উইকেট বাঁচানোতেই মনযোগ বেশি ছিল দুজনের, দ্বিতীয় সেশনে উঠল ৮৬ রান। হোপ ও ব্রাথওয়েট যখন সেশনটা পার করে দেবেন বলে মনে হচ্ছিল, তখনই বাংলাদেশের আঘাত। তাইজুলের বলটা হোপের গ্লাভসে লেগে উঠে যায় ওপরে, খানিক দৌড়ে সেটা নিজের তালুবন্দি করলেন নুরুল হাসান সোহান। ১৩৮ রানে তৃতীয় উইকেট পেল বাংলাদেশ।

কিন্তু শিমরন হেটমেয়ার নামার পরেই নিয়ন্ত্রণটা নিজেদের কাছে নিয়ে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একদিকে হেটমেয়ারের দারুণ সব স্ট্রোক, অন্যদিকে ব্রাথওয়েট দাঁড়িয়ে ছিলেন ধৈর্য্যের প্রতিমূর্তি হয়ে। ২৫৯ বলে শেষ পর্যন্ত তাঁর স্বভাবসুলভ সেঞ্চুরি পেলেন ব্রাথওয়েট। কিন্তু এরপরেই হল ধৈর্যচ্যুতি। মিরাজের বলে চার মারার পর ডাউন দ্য উইকেটে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে তাইজুলকে ক্যাচ তুলে দিলেন ব্রাথওয়েট। হেটমারের সঙ্গে ১০৯ রানের জুটিটা ভাঙল।

কিন্তু ২৪৭ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর আর কোনো সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। হেটমেয়ার রোস্টন চেজ মিলে এরপর রানের চাকাটাও অনেক দ্রুত করেছেন। দিন শেষে হেটমেয়ার ছিলেন ৮৪ রানে, চেজ ১৬ রানে। ৩ উইকেট নিয়ে মিরাজই সফলতম বোলার।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট