দ. আফ্রিকার মাটিতে ভারতের প্রথম সিরিজ জয়

দ. আফ্রিকার মাটিতে ভারতের প্রথম সিরিজ জয়

ছয় ম্যাচ ওয়ানডের প্রথম তিনটিতে দাপটে জয়ের পর সিরিজ নির্ধারণী চতুর্থ ম্যাচে ভারতের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বৃষ্টি। বৃষ্টিবিঘ্নিত চতুর্থ ম্যাচে ভারত হারলেও গতকাল রাতে পঞ্চম ওয়ানডেতে জিতে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে বিরাট কোহলির দল। আর এ জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল টিম ইন্ডিয়া।

টেস্টে ২৫ বছরের হিসাব মেলেনি। তবে ওয়ানডেতে এ যাবতকালের ওই অপূর্ণতা ঠিকই দূর করল বিরাট কোহলির ভারত। রোহিত শর্মার সেঞ্চুরিতে সাউথ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম সিরিজ জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। পঞ্চম ওয়ানডেতে দলটি জয় পেয়েছে ৭৩ রানে।

সাউথ আফ্রিকায় ভারত প্রথম খেলতে যায় ২৫ বছর আগে। সফরের শুরুতে ছিল চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। চারটিতেই হেরেছিল ভারত। ওই বছর ওয়ানডে সিরিজও হেরে আসে তারা। এরপর ২০১৮ সালের এই ফেব্রুয়ারির আগে কখনোই ভিলিয়ার্সদের দেশে সিরিজ জিততে পারেনি দলটি।

টেস্ট সিরিজ হারার পর ওয়ানডেতে টানা তিন ম্যাচ জয় পায় ভারত। চতুর্থ ম্যাচে স্বাগতিকরা জয় পেয়ে ছয় ম্যাচের সিরিজে টিকে ছিল। পঞ্চম ম্যাচে হেরে সিরিজ দিয়ে দিতে হচ্ছে।

সাউথ আফ্রিকা ঘরের মাঠে সর্বশেষ সিরিজ হেরেছে ২০১৩ সালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে।

ভারত এবার রিস্টস্পিন দিয়ে সাউথ আফ্রিকাকে কাত করছে। মঙ্গলবারও চায়নাম্যান বোলার কুলদ্বীপ যাদবকে খেলতে হিমশিম খেয়েছে দলটি। ২৭৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে কুলদ্বীপের ঘূর্ণিতে চার স্বাগতিক ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন। যাদব ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৫৭ রান দেন। দুটি করে উইকেট হার্দিক এবং চাহালের।

সাউথ আফ্রিকার সর্বোচ্চ স্কোরার হাশিম আমলা। ৯২ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলে দলকে পথে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তাকে ফিরতে হয় হার্দিকের হাতে রানআউট হয়ে। ভিলিয়ার্স ফেরেন আট বলে ছয় রান করে। মিডলঅর্ডারে মিলার (৩৬) এবং হেনরিক ক্লাসেনের (৩৯) ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে সাউথ আফ্রিকা। সেটি হয়নি ওই রিস্টস্পিনার যাদবের কারণে। বাঁহাতের কব্জির ভেলকিতে শেষ পাঁচ উইকেটের চারটি নেন তিনি।

এর আগের গল্পটা রোহিত শর্মার। ফর্মে থাকা বিরাট কোহলির (৩৬) রানআউট আর শেখর ধাওয়ানের (৩৪) ক্যাচ ভারতকে শুরুতে চাপে ফেলে। সেই চাপ জয় করার পথে রোহিত শর্মা ওডিআই ক্যারিয়ারের ১৭তম শতক হাঁকান। ১২৬ বলের ইনিংসে ১১টি চার এবং চারটি ছয়ে ১১৫ করে এনগিদির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।

এরপর আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও সাত উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াইয়ের স্কোর পেয়ে যায় ভারত। মিডলঅর্ডারে শ্রেয়াশ ৩৭ বলে ৩০ করেন। ১৭ বলে ১৩ করেন ধোনি। ভুবনেশ্বর কুমার ২০ বলে ১৯ করে অপরাজিত থাকেন।

সেঞ্চুরিয়ানে সিরিজের শেষ ম্যাচ ১৬ ফেব্রুয়ারি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারত ইনিংস: ২৭৪/৭ (৫০ ওভার)

(শিখর ধাওয়ান ৩৪, রোহিত শর্মা ১১৫, বিরাট কোহলি ৩৬, অজিঙ্কা রাহানে ৮, শ্রেয়াস আয়ার ৩০, হার্দিক পান্ডিয়া ০, মহেন্দ্র সিং ধোনি ১৩, ভুবনেশ্বর কুমার ১৯*, কুলদীপ যাদব ২*, মরনি মরকেল ০/৪৪, কাগিসো রাবাদা ১/৫৮, লুঙ্গি এনগিদি ৪/৫১, আন্দিল ফেহলাকওয়েও ০/৩৪, জেপি ডুমিনি ০/২৯, তাবরাইজ শামসি ০/৪৮)।

দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস: ২০১ (৪২.২ ওভার)

(আমলা ৭১, মারক্রাম ৩২, দুমিনি ১, ডি ভিলিয়ার্স ৬, মিলার ৩৬, ক্লাসেন ৩৯, ফেলুকওয়ায়ো ০, রাবাদা ৩, মর্কেল ১, শামসি ০, নগিডি ৪*; ভুবনেশ্বর ০/৪৩, বুমরাহ ১/২২, পান্ডিয়া ২/৩০, কুলদীপ ৪/৫৭, চেহেল ২/৪৩)

ফল: ভারত ৭৩ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রোহিত শর্মা

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট