নগ্নতা আটকাতে ওয়েব সিরিজেও আসতে চলেছে সেন্সর

নগ্নতা আটকাতে ওয়েব সিরিজেও আসতে চলেছে সেন্সর

চলচ্চিত্রের সীমাবদ্ধতা দূর করতে বিনোদন দুনিয়ায় আসে নতুন মাধ্যম ‘ওয়েব সিরিজ’। ইন্টারনেট ভিত্তিক এই মাধ্যমে নির্মাতা-প্রযোজকরা যেকোনো ধরণের গল্প উপস্থাপন করছেন। অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও বিভিন্ন সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করছেন। কোনো সেন্সর বাধা না থাকায় ওয়েব সিরিজে নগ্নতা যেন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। যৌনতাকে কেন্দ্র করে বলিউড ও টালিউডে প্রচুর ওয়েব সিরিজ নির্মাণ হচ্ছে। দর্শকরাও সেসব লুফে নিচ্ছে।

এমনই সময়ে খবর এলো, বাধার মুখে পড়তে যাচ্ছে ওয়েব সিরিজ। কোনো ওয়েব কন্টেন্ট প্রচারের আগে অবশ্যই সেন্সর বোর্ডের কাছে দেখাতে হবে, এমন নোটিশ জারি করেছে ভারতের মুম্বাই হাইকোর্ট।

ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে মুম্বাই হাই কোর্ট। দিব্যা গণেশপ্রসাদ গন্টিয়ার পিআইএল-এর ভিত্তিতে মুম্বাই হাই কোর্টের এই নোটিশ। দিব্যার আইনজীবী শ্যাম দেওয়ানি জানান, ওয়েব শো-এর কনটেন্টে অনিয়ন্ত্রিত অশ্লীলতা রুখতেই তাদের এই পিটিশন। এই ধরনের ওয়েব সার্ভিস প্রোভাইডারের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের দাবি তাদের। অশ্লীলতা ও নগ্নতা সম্প্রচার করা সংবিধানে বিচার্য অপরাধ। পিটিশনে আবেদন করা হয়, যাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফ থেকে একটি প্রি-স্ক্রিনিং কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মুক্তির আগে ওয়েব কনটেন্ট সেন্সর করা হবে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা দেয়া হয়েছে।

এমন নোটিশের প্রতিক্রিয়ায় এক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কর্ণধার বলেন, এই ধরনের সেন্সরশিপ দিয়ে ওয়েব কনটেন্টকে আটকানো আজকের দিনে মুশকিল। ইউটিউব, ফেসবুক, হোয়াটঅ্যাপ-এ যা যা আসছে সবই তো তাহলে ওই প্রিভিউ-এর আন্ডারে পড়ে যাবে। করতে হলে এটা প্রথম দিনই করা উচিত ছিল। এখন তো সব ছড়িয়ে গিয়েছে। মানুষের হাতে হাতে মোবাইল। এখন ওয়েব কনটেন্টকে কাঠগড়ায় তুলে কিছুই করা যাবে না। লোকের অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন বদল আনতে গেলে ব্যাকল্যাশ আসবেই। হয়তো ওরা একটা মাপকাঠি করবেন। যেহেতু এটা ব্যক্তিগতভাবে দেখার, পাবলিক ভিউয়িং নয়। ভারতে যদি এটা করেও যে, এই এই জিনিস দেখাতে পারব না, আমেরিকা বা বিদেশের অন্য জায়গা থেকে যে যে কনটেন্ট লোড করা হয় সেগুলো তো থাকবেই! ইন্টারনেট তো কাট করা সম্ভব নয়।

এখন প্রশ্ন ‘স্যাক্রেড গেমস’ বা ‘ঘুল’-এর মতো ওয়েবসিরিজ তৈরির স্বাধীনতা কি আর থাকবে? কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ‘হইচই’-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখনো তো বিষয়টা লাগু হয়নি। তেমন হলে দেখা যাবে। আমাদের ওয়েব কনটেন্ট মানুষ সাবস্ক্রাইব করে দেখে। অর্থাৎ ক্রেতা ঠিক করে কেন দেখবে বা দেখবে না। সেন্সর হোক বা না হোক দর্শক ঠিক করবে দেখবে কি না।

টালিউডের নির্মাতা অরিন্দম শীল বলেছেন, আমাদের দেশের স্বভাবটাই হয়ে গেছে সবকিছুর ওপর খবরদারি করা। তো ওয়েব সিরিজ একটু করে খাচ্ছিল এখন সেখানেও সেন্সরশিপ আনার চেষ্টা শুরু হল। মৌলবাদীদের নিয়ে মহা জ্বালা। আমরা কিছু করে উঠতে পারব না। আমার প্রশ্ন তাহলে কি নেটফ্লিক্স, আমাজন সবই সেন্সরের আওতায় আসবে? ভারতীয় ওয়েব প্ল্যাটফর্মের প্রোডাকশন না হয় সেন্সরশিপের আন্ডারে এল কিন্তু ইউটিউব খুললে বা নেটফ্লিক্স-আমাজন-এ গেলে, মানে বিদেশি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম আমরা উইদাউট সেন্সরশিপ দেখব, আর ঘরের ভেতরের গুলোর ক্ষেত্রে বোকা বোকা সেন্সরশিপ হবে? তেমন হলে খুব চিন্তার ব্যাপার। আমরা যতবারই উন্নত হতে চাই, প্রাপ্তমনস্ক-পরিণত হতে চাই, মৌলবাদীরা তা হতে দেন না।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট