নবীজীকে কটূক্তি করলে আইনি ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

নবীজীকে কটূক্তি করলে আইনি ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ(সা.) এর বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোববার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। এই অপপ্রচারে কেউ বিশ্বাস করবেন না। এই অপপ্রচার বন্ধের জন্য এরইমধ্যে আমরা সাইবার ক্রাইম আইন করেছি। কেউ মিথ্যা অপপ্রচার চালালে এই আইন দ্বারা তাদের বিচার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ধর্ম ইসলাম ধর্ম। আমাদের নবীজীকে নিয়ে কেউ কটূক্তি করলে আইন দ্বারাই তার বিচার করা হবে। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম, সেটাই আমরা প্রমাণ করতে চাই। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গিবাদের স্থান হবে না, সন্ত্রাসের স্থান হবে না, মাদকের স্থান হবে না, দুর্নীতির স্থান হবে না। বাংলাদেশ হবে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ, উন্নত দেশ।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আলেমদের কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসার আলেমদের শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের দোয়া চাই, সামনে নির্বাচন আছে।’

আলেম ওলামাদের এ বিশাল সমাবেশে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) কাছ থেকে শিখেছি একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করবে না। তিনিও করতেন না, আমিও তা করি না। শুধু আল্লাহর কাছে ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করি না, আর আল্লহ ছাড়া কাউকে ভয়ও করি না।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা দিন ইসলামের খেদমত করছেন তাদের মধ্যে উপস্থিতি হতে পারা এটা একটা সৌভাগ্যের বিষয়।

তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন আল্লামা শফী সাহেব বললেন তিনি সংবর্ধনার আয়োজন করবেন। আমি বললাম না আমার জন্য না। এটা হবে আল্লাহর জন্য শুকরিয়া আদায় করা। কারণ, আমি এটা বিশ্বাস করি যে আমাদের ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম। ইসলাম ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। ইসলাম ধর্ম মানুষকে শান্তির পথ দেখায়। আর সেই দীন শিক্ষাযারা দেন তারা কেন অবহেলিত থাকবে। কাজেই তাদের কখনো অবহেলিত থাকতে দেওয়া যায় না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ববোধ থেকেই আমি দেশের জন্য কাজ করি। আমার পিতা আমাকে এই শিক্ষাই দিয়েছেন যে, মানুষের সেবা কর আর সাধারণভাবে জীবন যাপন কর। আমরা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাই। আজকে পাক ভারত উপমহাদেশে মুসলমানদের শিক্ষাগ্রহণের একমাত্র প্রথম উপায়টা ছিল কওমি মাদরাসা। কওমি মাদ্রাসার মাধ্যমেই কিন্তু মুসলমানরা শিক্ষাগ্রহণ শুরু করে। যারা ওই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেছিলেন তারাই কওমি মাদ্রাসা চালু করেন। কাজেই তাদের সবসময় আমরা সম্মান করি ।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি অবাক হই যে এই বাংলাদেশে ৭৫ এ শুধু জাতির পিতাকে হত্যাই করে নাই। জাতির পিতাকে হত্যা করে যারা ক্ষমতায় এসেছিল, নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়েছিল তারা ৭৭ সালে কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতিটা বন্ধ করে দিয়েছিল, বাতিল করে দিয়েছিল।

মাহফিলে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে শুকরানা স্মারক তুলে দেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী, কওমী সনদের স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে পাস হওয়া বিলের কপি আল্লামা শাহ আহমদ শফীর হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

হেফাজতে ইসলামের আমির ও আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নুল আবেদিন, স্বাগত বক্তব্য দেন আল্লামা আবদুল কুদ্দুস।

আরও বক্তব্য রাখেন আল্লামা আশরাফ আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ, মাওলানা আজহার আলী আনোয়ার শাহ, আল্লামা ফরিদউদ্দীন মাসুদ, আল্লামা মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা সুলতান জক নদভীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন আবু তাহের নদভী, মাওলানা আরশাদ আহমেদ, মাওলানা আব্দুল বছিদ, মাওলানা নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

মাহফিল সঞ্চালনা করেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক ও গওহরডাঙ্গা শিক্ষা বোর্ডের মুফতি মাকসুদুল হক। প্রধানমন্ত্রী গভীর মনোযোগ দিয়ে আলেম ওলামাদের বক্তব্য ও দাবি দাওয়ার কথা শোনেন।

মাহফিলকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। রবিবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৬ টা থেকেই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশেপাশে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতে দেখা গেছে। মৎস্যভবন থেকে সেগুনবাগিচা এলাকা, কদম ফোয়ারা-প্রেসক্লাব হয়ে পল্টন জিরো পয়েন্টেও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট মোড়, টিএসসি চত্বর, শাহবাগ, রমনা পার্কের গেটসহ আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। একইসঙ্গে এসব স্থানে রায়টকার, এপিসি কার মোতায়েন করা ছিল। প্রস্তুত ছিল  ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম। ছিলেন বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াতের সদস্যরা। যানজটসহ যে কোনও প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উদ্যান ও তার আশেপাশের এলাকাগুলোর সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সকাল ৯টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে মাহফিল শুরু হয়। এদিকে মাহফিলকে কেন্দ্র করে সারাদেশ থেকে কওমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা সকাল থেকেই উদ্যানে আসতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০ টা ৪৮ মিনিটে মঞ্চে এসে উপস্থিত হন। প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই গোটা মাহফিলস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বহুলোক উদ্যানে প্রবেশ করতে না পেরে পাশের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, টিএসসি, দোয়েল চত্বর এলাকাতেও অবস্থান নেয়।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট