নিজের সম্পর্কে মনোবিজ্ঞানের রহস্য

নিজের সম্পর্কে মনোবিজ্ঞানের রহস্য

নিজেকে চিনতে পারা খুব বড় একটি গুণ। নিজের বিষয়ে বা নিজেকে যতো বেশি জানবেন, অন্যকেও ততো বেশি চিনতে পারবেন। তাই প্রত্যেক মানুষের তার নিজের সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত। মনোবিজ্ঞানের ৪০টি বিষয় রয়েছে যা আপনাকে নিজেকে চেনাতে সহায়তা করবে। এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন মানুষের ব্যবহার বিষয়ক মনোবিজ্ঞানী ড. সুসান ওয়েনচেঙ্ক।

১. দৃষ্টিসীমার মাঝে অনেক বড় কিছু আপনার দৃষ্টি এড়াতে পারে। একে বলে ‘ইনঅ্যাটেনশন ব্লাউন্ডনেস’। চোখের সামনে অনেক কিছুই ঘটে যা সহসা চোখে পড়ে না।

২. লম্বা লাইন দ্রুত পড়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কম্পিউটারের পর্দায় লম্বা একটি লাইন দ্রুত পড়েন মানুষ। কিন্তু তারা লম্বা লাইন পড়তে পছন্দ করেন না। ছোট লাইন পড়তে সহজ বোধ করেন মানুষ।

৩. গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ একসাথে তিন থেকে চারটি বিষয় মনে রাখতে পারে। গবেষণায় বলা হয়, তিন থেকে চারটি বিষয় টানা বিশ সেকেন্ডের মতো মনে রাখতে পারেন।

৪. আপনি যেকোনো জিনিস ওপর থেকে এবং হেলানো অবস্থায় চিন্তা করলে কল্পণায় সেভাবেই যেকোনো জিনিসের ছবি ভেসে ওঠে। এক গবেষণায় একটি চায়ের কাপ আঁকতে দেওয়া হয় বিভিন্ন মানুষকে। তারা সবাই একই ধরনের ছবি আঁকেন- একটু দূর থেকে দেখা যাচ্ছে একটি কফি কাপ। আর এটি ওপর থেকে সাধারণত আঁকেন মানুষ।

৫. আপনার যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ আসে অবচেতন মন থেকে। আপনার মস্তিষ্ক প্রতি সেকেন্ডে ১ কোটি ১০ লাখ পিস ডাটা প্রসেস করে। এত ডাটা সচেতনভাবে পরীক্ষার সময় নেই। তাই অবচেতনভাবেই সেখান থেকে সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসে।

৬. পুরনো কোনো বিষয় যতবার চিন্তা করবেন, আপনার স্মৃতি ততবার পুনর্গঠিত হবে। এতে করে প্রতিবারই স্মৃতিটা নতুনভাবে গঠিত হতে পারে।

৭. মানুষ একযোগে একাধিক কাজ করতে পারে না। তবে চর্চার মাধ্যমে হয়তো তা করা যেতে পারে। কিন্তু সহজাতভাবে তা করতে পারে না মানুষ।

৮. মানবদেহে ডোপামেন নামে এক ধরণের হরমোন রয়েছে যার ফলে ব্যক্তির তথ্য খোঁজার নেশা বেড়ে যায়। ইমেইল বা মেসেজে আসক্তি এর থেকেই তৈরি হয়।

৯. বিভিন্ন রংয়ের সমন্বয় ঘটে বিভিন্ন কাপড়ে। কিন্তু লাল ও নীলের সমাবেশ চোখে সবচেয়ে যন্ত্রণা তৈরি করে। চোখে রংয়ের এ প্রভাবকে বলে ‘ক্রোমোস্টেরোপসিস’।

১০. আপনি সব সময় এত বেশি পছন্দের পথ এবং তথ্য চান যা আপনি নিজে কখনোই সমন্বয় করতে পারবেন না।

১১. মানুষ বহু চেষ্টা করেও খাবার, সেক্স এবং ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে মনকে সরিয়ে রাখতে পারবেন না।

১২. প্রযুক্তির বিষয়টি মাথায় আসলে আপনি নিজের বয়সের বিষয়টি মাথায় আনেন। আধুনিক মানুষরাও এটি করেন। তারা একে স্বাভাবিক বলেই ধরে নেন। কারণ, তাদের এ যুগে ও বয়সে এগুলো একান্ত সহজপ্রাপ্য। আবার পুরনোরাও তাদের বয়সের কথা চিন্তা করেন।

১৩. কোনো অভ্যাসের পরিবর্তন করতে চাইলে মজা করুন, উদ্দীপনা নিয়ে চলুন এবং আড্ডাবাজি করুন।

১৪. অনলাইনে পড়ার কাজটি মোটেও আনন্দের নয়। অনলাইনে কম্পিউটারের পর্দার রং এবং আলো মানুষকে কাগজে পড়ার মতো আনন্দ দেয় না।

১৫. যদি হাসতে না পারেন, তবে আপনি সামাজিক হতে পারবেন না। অর্থাৎ, সোশাল মিডিয়ায় থাকা মানেই সামাজিক হওয়া নয়। কারো সঙ্গে সময় কাটানোর সময় হাসির উদ্রেক আপনাকে সামাজিক করে তুলবে।

১৬. তৃপ্তির জন্যে অপেক্ষায় থাকা বা সময়ক্ষেপণ করার গুণটি যদি থাকে, তবে বুঝতে হবে আপনি ছোটবেলা থেকেই এমন ছিলেন। মনের মতো কিছু পেতে অপেক্ষা করতেন।

১৭. আপনার অবচেতন মন সব সময় আগাম বিষয়টি ধরতে পারে। আপনি হয়তো তা সচেতনভাবে বুঝতে পারেন না।

১৮. ইংরেজিতে সব অক্ষর যদি বড় হাতে লেখা হয় তবে তা পড়াটা কঠিন- এমন তথ্য আসলে প্রচলিত রয়েছে, কিন্তু মোটেও সঠিক নয়।

১৯. আপনার মনোযোগ মানুষের ছবি চিন্তা করে গড়ে ওঠে। মনোযোগ দিতে গিয়ে মানুষ তার চোখে মানুষের চেহারা ধরার চেষ্টা করে।

২০. ভবিষ্যতের কিছু বোঝার জন্যে মানুষের ক্ষমতা একেবারেই নেই। আপনি ভবিষ্যত নিয়ে কিছু বুঝতে গিয়ে বর্তমান নিয়ে অতিরিক্ত এবং অতিরঞ্জিত চিন্তা করে থাকেন।

২১. আপনার ‘পেরিফেরাল ভিশন’ অনেক কিছু জানিয়ে দেয় আপনাকে। মূল যে জিনিসটির দিকে চোখ দেবেন, তার আশপাশের আরো কিছু জিনিস চোখে ভেসে উঠবে। এটিই আপনার পেরিফেরাল ভিশন।

২২. আপনি যেকোনো কৃত্রিম এবং সহানুভূতিশীল আচরণের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল থাকেন।

২৩. যখন মনটা ভারি থাকে এবং ভয় পান তখনই ব্র্যান্ড বা নাম করা জিনিসের প্রতি আসক্তি আসে।

২৪. কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা নির্ভর করে আপনার মন-মানসিকতা কেমন রয়েছে তার ওপর।

২৫. সংস্কৃতি আমাদের মস্তিষ্ককে শাণিত করে।

২৬. কম্পিউটারের পর্দায় মেনু বারের নিচ থেকেই আমরা পড়ি।

২৭. জীবনে মোট ১৫০ জন মানুষ পাবেন যাদের সঙ্গে আপনার কঠিন ভাব তৈরি হয়েছে।

২৮. আপনি নিয়ন্ত্রণের জন্যে ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু পছন্দ করেন সহজাতভাবে।

২৯. একইরকম সাজানো আচরণ একটি দল তৈরি করে।

৩০. অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে পারফরমেন্স খারাপ হয়ে যাবে।

৩১. মানুষ আপনাকে বিবেচনা করবে, পরিস্থিতি নয়।

৩২. উন্নয়নের লক্ষণ আপনাকে প্রেরণা যোগাবে।

৩৩. সময়ের ৩০ শতাংশ নিয়ে মেতে থাকতে পারে আপনার মন।

৩৪. আপনার মন সব সময় বিশ্বাস করবে যে, অন্যকে প্রভাবিত করা যত সহজ, আপনাকে তত নয়।

৩৫. আপনার সবচেয়ে বিস্তারিত স্মৃতিটি আসলে ভুল থাকে। খুব বড় ধরনের নাটকীয় বা মনে রাখার মতো স্মৃতিকে বলা হয় ‘ফ্ল্যাশবাল্ব মেমোরি’। আর এ ধরণের স্মৃতিতে বহু ভুল থাকে যা মানসিক আবেগ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়।

৩৬. টাকাকে যদি ‘টাকা’ না বলে উচ্চারণ করেন, তবে তা অনেক বেশি খরচ করা যায়।

৩৭. সোশাল মিডিয়ায় মানুষ অনলাইনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামাজিক নিয়ম প্রয়োগ করতে চান।

৩৮. যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না, তখন মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে অন্যের দিকে চেয়ে থাকে।

৩৯. পছন্দের কেউ না থাকলে তালিকার প্রথম জনকেই ভোট দিতে প্রস্তুত থাকে মানুষ।

৪০. আপনি যত বেশি অনিশ্চিয়তায় ভুগবেন, নিজের চিন্তাধারাকে তত বেশি রক্ষা করার চেষ্টা করবেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট