নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি সুজনের

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি সুজনের

বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে দলীয় সরকার ক্ষমতায় রেখে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই, নির্বাচনকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুজনের উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই তা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। বর্তমান সরকার বহাল রেখে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ইসির আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো ইভিএম থেকে সরে আসছে। সেখানে আমরা তড়িঘড়ি করে রকেট গতিতে আরপিও সংশোধন করে ইভিএম ব্যবহার করার প্রস্তাব রহস্যজনক।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান আমলে বেসিক ডেমোক্রেসির কথা বলা হত, এখন বলা হচ্ছে কন্ট্রোল ডেমোক্রেসির কথা।

তিনি বলেন, আমাদের অনেক অর্জন ছিল। গত ১০ বছরে সরকার সব অর্জন নষ্ট করে দিয়েছে। সরকার যতই আইন করুক না কেন , এই সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব না।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন দিয়ে একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে না। তাই, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করে নির্বাচন কমিশন পূনর্গঠন করার পর নির্বাচন দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সিআর আবরার বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে সবাই শংকিত। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কোনো আস্থা অর্জন করতে পারেনি। আমরা চাই জনগণ যেন তার ভোট দিতে পারে। সেই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দল যাতে নির্বাচনী মাঠে সমান সুযোগ পায়।

জুনায়েদ সাকি বলেন, কোনো দল নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, সেটা তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। দুইটি সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন থাকবে না। এটা গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে কি নেবে না এটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ইসির সংলাপে অংশ নেয়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত কমিশন আমলে নিচ্ছে না। বিপরীতে ইসি সরকারি দল কি কি প্রস্তাবনা দিয়েছে সেগুলো খুঁজে খুঁজে বাস্তবায়ন করছে। তাই এই কমিশনের প্রতি সাধারণ মানুষের কোনো আস্থা নেই।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভুমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকতে পারে না। তিনি বলেন, প্রশাসন আইনকে অস্ত্রে পরিনত করতে ইভিএম ব্যবহার করতে চাচ্ছে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বর্তমান চাইলেই কেবল সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হইলে তারা কতটা চাইবে সেটাই বড় প্রশ্ন । তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর লাগবে এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বেলার নির্বাহী পরিচালক, সৈয়দা রেজোয়ানা হাসান বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলাম, এখন ২০১৮ সাল চলে। এই সময়ের মধ্যে কোন নির্বাচনে আর ভোট দিতে পারি নাই। কোনো রাজনৈতিক সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। ভোট এখন চুরি হয় না, ভোট এখন ডাকাতির মধ্যে চলে গেছে।

ব্যারিষ্টার জোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, বর্তমান অবস্থায় আমরা কোনটা সরকার আর কোনটা রাষ্ট্র আমরা গুলিয়ে ফেলছি। এই অবস্থা চলতে পারে না। জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক। তাদের ক্ষমতা তাদেরকেই ফিরিয়ে আনতে হবে।

সভায় সুজনের পক্ষ থেকে ১২ দফার একটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে, সেগুলো হলো, সংশোধিত আরপিওতে না ভোটের বিধান পুন:প্রবর্তন করা, মনোনয়নপত্র অনলাইনে জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা, রাজনৈতিক দলের সকল স্তরের কমিটির তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী বিরোধ নিস্পত্তি করা।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট