নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই অপচেষ্টা করলেও সফলকাম হতে পারবে না। কারণ, জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে।

গত বুধবার রাজধানীতে বিএনপির সন্ত্রাসীদের পুলিশের ওপর হামলা এবং তাদের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের কঠোর সমালোচনা করে এ ধরণের হামলা প্রতিরোধে জনগণকে এগিয়ে আসার আহবানও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার ধানমন্ডিস্থ দলীয় কার্যালয়ে দলের সংসদীয় বোর্ডের সভার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি যেহেতু নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কাজেই আমি তাদেরকে বলতে চাই তাদের প্রচেষ্টা এমন হওয়া উচিৎ যাতে করে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হতে পারে, তাদের এটি বানচালের ষড়যন্ত্র করা উচিৎ নয়।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাদের ভোট, গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক অধিকারকে সমুন্নত রাখতে বিএনপি’র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমি বিএনপির যেকোনো সন্ত্রাস এবং মানুষকে বোমা মেরে পুড়িয়ে মারার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাব। কারণ, জনগণের ভোট, গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক অধিকারকে নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বিএনপি নেতা সে সময় হঠাৎ একটি মিছিল নিয়ে বিএনপি অফিসের সামনে হাজির হলো, যেটা তাদের করার কথা নয় এবং তারা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করলো এবং তাদের তিনটি গাড়ি পুড়িয়ে দিল।

তিনি বলেন, বিএনপি আবারো আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে যেমনটি তারা ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে করেছিল। এই দলটি আগুন সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছু যে পারে না এই ঘটনাই সেটার প্রমাণ।

তিনি বলেন, যখন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের ফুটেজে দেখা যাচ্ছে বিএনপির সন্ত্রাসিরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে তখন বিএনপি নেতৃবৃন্দ তড়িঘড়ি বিবৃতি দিল ছাত্রলীগই এই ঘটনার জন্য দায়ী তারাই পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন তাহলে কি ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের কর্মীরা সে সময় ও বিএনপি অফিসের সামনে উপস্থিত ছিল? আর তারা সেখানে যাবেই বা কেন?

বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাদের তিনটি যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়ার পরেও গতকালের ঘটনায় ধৈর্য প্রদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, জনগণের জান-মাল ধ্বংস করা অত্যন্ত দুঃখজনক, বিশেষ করে যখন নির্বাচনের আগে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে রয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ চায় উৎসবমুখর পরিবেশে একটি নির্বাচন এবং তারা নিজেরাই নিজেদের পছন্দমত সরকার নির্বাচন করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় আওয়ামী লীগের মননোয়ন প্রত্যাশীদের দলের মনোনয়নের জন্য ৪ হাজারের অধিক মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহের উল্লেখ করে বলেন, এত বিপুল সংখ্যক মনোনয়ন প্রত্যাশী থেকে ৩শ’ জনকে মনোনয়ন প্রদান করা সত্যিই খুব কঠিন কাজ। কিন্তু ইনশাল্লাহ আমরা তা করতে সক্ষম হবো।

তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী- দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার জন্য এবং তাদের জীবন-মানের উন্নয়নের জন্য জনগণ নৌকায় তাদের ভোট প্রদান করবে এবং আমরা অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব, ইনশাল্লাহ।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট