নেদারল্যান্ডসের তিন যমজ ভাইয়ের ইতিহাস

নেদারল্যান্ডসের তিন যমজ ভাইয়ের ইতিহাস

ক্রিকেট ইতিহাস নতুন এক অনন্য ঘটনা দেখলো। লিস্ট ‘এ’র এক ম্যাচে একই দলের হয়ে খেললেন তিন ভাই। তিন ভাইয়ের জন্ম আবার একই সঙ্গে। এমন ঘটনা ঘটেছে নেদারল্যান্ডসে। জুলফিকার আহমেদের জন্ম পাকিস্তানের শিয়ালকোটে। ১৯৮৭ সালে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান নেদারল্যান্ডসে। এক সময় দেশটির নাগরিকত্ব পান। পাকিস্তানে থাকতেই নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন। নেদারল্যান্ডসে গিয়ে সেটা চালিয়ে যান। ১৯৯১ সালে দেশটির জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। ২০০২ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের হয়ে ৯টি লিস্ট ‘এ’র ম্যাচ খেলেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সুযোগ হয়নি তার। ১৯৯৭ সালে তিনি নেদারল্যান্ডসের জাতীয় দলের খেলোয়াড়। তখন তার ঘর আলো করে একসঙ্গে জন্ম নেয় তিন পুত্র সন্তান।

তিনজনের নাম রাখেন- সিকান্দার, আসাদ ও সাকিব জুলফিকার। নিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে না পারলেও ছেলেদের নিয়ে তার আশা ছিল। তিনি তার যমজ তিন পুত্রকে ক্রিকেট শেখাতে থাকেন। এখন তিন সন্তানকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পথে। জুলফিকার আহমেদের এক ছেলে সিকান্দার জুলফিকার ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ফেলেছেন। নেদারল্যান্ডসের হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গত বছর দু’টি টি-টোয়েন্টিম্যাচ খেলেছেন। বাকি ছিলেন আসাদ ও সাকিব জুলফিকার। তারাও এখন জাতীয় দলের পথে।

তবে তার আগে অনন্য এক ইতিহাস গড়ে ফেললেন তারা যমজ তিন ভাই। দেশের হয়ে একই ম্যাচে একসঙ্গে খেললেন তারা। নেদারল্যান্ড সফরে রয়েছে আরব আমিরাত। সোমবার তাদের বিপক্ষে লিস্ট ‘এ’র এক ম্যাচে মাঠে নামে নেদারল্যান্ডস। ওই ম্যাচে ডাচদের হয়ে মাঠে নামেন তিন ভাই সিকান্দার, আসাদ ও সাকিব। ক্রিকেট ইতিহাসে দুই ভাইয়ের একই সঙ্গে খেলার বেশ কয়েকটি নজির রয়েছে। যদিও যমজ দুই ভাইয়ের একসঙ্গে খেলার ঘটনা বিরল। তিন ভাইয়ের জাতীয় দলে খেলার ঘটনাও আছে। যার দৃষ্টান্ত পাকিস্তানের কামরান আকমল, উমর আকমল ও আদনান আকমল। কিন্তু তারা একসঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেননি। আর তিন যমজ ভাইয়ের একসঙ্গে খেলার কোনো ঘটনাই এতদিন ছিল না।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে জন্ম নেয়া তিন ভাই জাতীয় দলের হয়ে একই ম্যাচে খেললেন। ইতিহাস গড়া এই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস হেরে গেছে ৩ উইকেটে। টস জিতে আগে ব্যাটে যাওয়া নেদারল্যান্ডস সংগ্রহ করে ৮ উইকেটে ১৮২ রান। জবাবে এক ওভার হাতে রেখে ৭ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় আরব আমিরাত। ইতিহাস গড়া এই ম্যাচে লিস্ট ‘এ’তে অভিষেক হওয়া আসাদ ও সাকিব তেমন যুৎ করতে পারেননি। তারা যথাক্রমে ১৫ ও ১১ রানে আউট হন। তবে তাদের চেয়ে তুলনামূলক অভিজ্ঞ সিকান্দার জুলফিকার দারুণ খেলেন। ৫৬ বলে ২ চারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট