ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

সংস্থার চেতনা সমুন্নত রাখা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে শুক্রবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হয়েছে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) ১৮তম সম্মেলন।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে প্রায় ৬০ দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান যোগ দিয়েছেন।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বাকু কংগ্রেস সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

বাকু সম্মেলনে আগামী তিন বছরের জন্য ন্যামের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে আজারবাইজান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাকু কংগ্রেস সেন্টারের প্লেনারি হলে ন্যামের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং প্রতিনিধিদের সাথে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় সেন্টারে পৌঁছালে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট তাকে স্বাগত জানান।

সম্মেলনে যোগ দেয়া বিশ্বনেতাদের মাঝে রয়েছেন- ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ, জিবুতির প্রেসিডেন্ট ইসমাইল ওমর, ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-অ্যাডো, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি, ভারতের উপরাষ্ট্রপতি এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু, তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট গুরবাংগুলি বেরদাইমুখামেদো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা প্রেসিডেন্সির চেয়ারম্যান বাকির ইজেৎবেগোভিক, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি ও লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফয়েজ মোস্তাফা আল-সারাজ।

ন্যামের বর্তমান সভাপতি ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের পর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগামী তিন বছরের জন্য ন্যামের সভাপতি নির্বাচিত হন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের সভাপতি তিজ্জানি মোহাম্মদ-বান্দে।

সম্মেলনের আয়োজক আজারবাইজান পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার মাঝে অবস্থিত। দেশটির জনসংখ্যা ১ কোটি। বহু জাতি ও ধর্মের এ দেশের নাগরিকদের ৯৬ শতাংশ মুসলিম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৭তম ন্যাম সম্মেলনের পর থেকে প্রয়াত হওয়া ন্যাম নেতাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ১৭তম ন্যাম সম্মেলন ২০১৬ সালে ভেনিজুয়েলায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বাকু

এবারের ১৮তম ন্যাম সম্মেলনে সাধারণ বিতর্কের বিষয় হলো- ‘সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি সমন্বিত ও পর্যাপ্ত সাড়াদান নিশ্চিতে বানদুংয়ের মূলনীতিগুলো সমুন্নত রাখা।’

শেখ হাসিনা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সেন্টারের ভোজ হলে প্রতিনিধিদলের প্রধানদের জন্য আয়োজিত আলোচনা ও মধ্যাহ্নভোজ এবং প্লেনারি সেশনে অংশগ্রহণ করবেন।

সন্ধ্যায় তিনি হায়দার আলিয়েভ সেন্টারে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনায় যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী ন্যাম সম্মেলনের ফাঁকে আজ বিকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।

বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট বাধা বা বিরোধিতা না করা উন্নয়নশীল বিশ্বের ১২০টি দেশ নিয়ে ন্যাম গঠিত। সংস্থাটির ১৭ পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র ও ১০ পর্যবেক্ষক সংস্থা রয়েছে।

জাতিসংঘের পর দ্বিতীয় বৃহৎ সংগঠন ন্যাম। বর্তমানে বিশ্বের ৫৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী ন্যাম সদস্য দেশগুলোতে বাস করে। এসব দেশগুলোতে রয়েছে বিশ্বের ৭৫ শতাংশের বেশি তেল এবং ৫০ শতাংশের বেশি গ্যাসের মজুদ। সেই সাথে আছে সর্বোচ্চ মানব ও প্রাকৃতিক সম্পদ।

১৯৫৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বানদুং সম্মেলনে গৃহীত মূলনীতিগুলো অনুসারে ১৯৬১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসেপ ব্রোজ টিটোর উদ্যোগে বেলগ্রেডে ন্যাম প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার ভেঙে পড়া ও আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামকালে এবং স্নায়ুযুদ্ধের চরম সময়ে ন্যাম যাত্রা শুরু করে। এ সংস্থার কার্যক্রম ঔপনিবেশিকতা দূর করে অনেক দেশ ও মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জন এবং কতগুলো নতুন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মূল কারণ হিসেবে কাজ করে।

ন্যাম তার ইতিহাস জুড়ে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছে।

১৮তম ন্যাম সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে ২১-২২ অক্টোবর অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর উচ্চ-পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে ২৩-২৪ অক্টোবর আলোচনায় বসেন। এছাড়া, বাকুতে ২৪ অক্টোবর ন্যামের যুব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট