পদের জন্য নয়, দেশের জন্য ছাত্র রাজনীতি করেছি: প্রধানমন্ত্রী

পদের জন্য নয়, দেশের জন্য ছাত্র রাজনীতি করেছি: প্রধানমন্ত্রী

পদের জন্য নয়, দেশের জন্য ছাত্র রাজনীতি করেছেন বলে জানালেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ ।  শুক্রবার (১৭ মে) তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে দলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের জন্য কাজ করতে এবং গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। এজন্যই তিনি দিনের পর দিন সংগ্রাম করেছেন। কেননা, গণতান্ত্রিক ধারা ছাড়া দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এই দেশটা যেন আবারও স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী— এদের হাতে না যায়। কেউ যেন দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। সেদিকে সবাইকে সর্তক থাকতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা বারবার চেয়েছে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে, তারা সফল হয়নি। আওয়ামী লীগ কিন্তু আওয়ামী লীগের মতোই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। আজকে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এক নম্বর রাজনৈতিক দল। যে দল মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। সেই আস্থা ও বিশ্বাস আমরা দেখতে পেয়েছি এবারের নির্বাচনে। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে প্রথমবার ভোটার হওয়া তরুণরা সবাই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে তাদের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন ব্যক্ত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এর কারণটা হলো—আমরা যে ক্ষমতায় থেকে মানুষের জন্য কাজ করেছি, মানুষের জন্য ‍উন্নয়ন করেছি, মানুষের ভাগ্য গড়ার জন্য যে কাজগুলো করেছি, সেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে। এটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনও রাজনৈতিক নেতার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করা। নইলে ক্ষমতায় থাকলে সাধারণত মানুষের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে মানুষের আস্থা- বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি বলেই মানুষের ভোট আমরা পেয়েছি, জনপ্রিয়তা ও সমর্থন দুটোই বেড়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হোক, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক, গত ৩৮ বছরে এমন কোনও কাজ আমি বা আমার পরিবারের কোনও সদস্য কখনও করিনি। নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার জন্য কাজ করিনি, কাজ করেছি দেশের মানুষের জন্য। সব সময় চিন্তা করেছি মানুষকে কী দিতে পারলাম, মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম। আমরা যতবার ক্ষমতায় এসেছি, মানুষের জন্য কাজ করেছি, তত মানুষের আস্থা- বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৫-এর পড় এত বড় দায়িত্ব আমাকে নিতে হবে, এটা কখনও আমি ভাবিনি, চাইওনি, এটা চিন্তাও ছিল না। কিন্তু নিতে হয়েছে। চরম প্রতিকূল পরিবেশের ভেতর দিয়ে দলকে সংগঠিত করতে হয়েছে।’ তবে টানা ৩৮ বছর দলের সভাপতি থাকা বোধহয় একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্বরে না বলে ওঠে। তারা শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনিই সঠিক নেতা, আপনার হাতেই দেশ ও দল নিরাপদ। আপনাকেই এ দায়িত্ব চালিয়ে যেতে হবে।’ জবাবে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার মনে হয় আপনাদেরও সময় এসেছে, তাছাড়া বয়সও হয়েছে, এ বিষয়গুলো তো দেখতে হবে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘ক্ষমতায় থেকেও মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি এটা বিশাল অর্জন। নেতাকর্মীদের কাছে এইটুকু চাইবো– এই আস্থা-বিশ্বাস যেন আমরা ধরে রাখতে পারি। ব্যক্তিগত জীবনে কী পেলাম, না পেলাম সে চিন্তা করি না। দেশের মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা।’

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা সপরিবারে নিহত হওয়ার পর কয়েক বছর বিদেশে অবস্থান করে ১৯৮১ সালের আজকের এই দিনে (১৭ মে) দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে আসার আগে বিদেশে থাকা অবস্থায়ই তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি টানা ৩৮ বছর বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এক মেয়াদে পাঁচ বছর এবং ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে টানা তিনবার মিলিয়ে বাংলাদেশে ইতিহাসে চারবারের মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির স্মৃতিচারণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তারপর কলেজে ও ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রলীগেরই সদস্য ছিলাম। আর আওয়ামী লীগের (সদস্য) হলাম ৮১ সালে। আমার রাজনীতি ছাত্ররাজনীতি থেকেই শুরু। তবে কখনও কোনও বড় পোস্টে ছিলাম না, বড় পোস্ট চাইও নি কখনও। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির একজন সদস্য ছিলাম। কখনও পদ নিয়ে চিন্তা করিনি, পদ আমরা চাইও নি। আমরা পদ সৃষ্টি করে সবাইকে পদে বসানো—এই দায়িত্বটাই পালন করতাম। প্রত্যেকটা কনফারেন্সে হাজির থাকতাম।’

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষনেতারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ফুলেল শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের শীর্ষনেতারাও।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট