পদ্মাসেতু ছাড়া আর কোনো বড় প্রকল্পে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি

পদ্মাসেতু ছাড়া আর কোনো বড় প্রকল্পে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি

রাজনৈতিক ঐক্যমত, সামাজিক পর্যবেক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার, এমন মত সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি’র।

সোমবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে চলতি অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এমন মত দিয়েছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না উল্লেখ করে পদ্মাসেতু ছাড়া আর কোনো বড় প্রকল্পে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা নতুন ভ্যাট আইনের পক্ষে ছিলাম। আমরা ১২ শতাংশের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। যদি আমাদের সেই কথাটা শোনা হতো, আইনের এই পরিণতি না ও হতে পারতো। কারিগরি প্রস্তুতির অভাব, রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের অভাব এবং সামাজিক তাৎপর্যকে অনুধাবন করতে না পারা- এই তিন মূল কারণে এবারের ভ্যাট কার্যকর হতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন কোন প্রজন্মের ব্যাংক নেই ব্যাক্তিখাতে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় তারা কোন না কোনভাবে আক্রান্ত হয়েছে। এটার কারণ হলো- ভেতরে সুশাসন না থাকা এবং তাদের ওপর নজরদারী ঠিকমতো না করা এবং এটার মূল কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব।’

সিপিডির সম্মানীত ফেলো বলেন, ভ্যাট আইন কার্যকর না হওয়ায় আমদানি পর্যায়ে এর খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। সম্পূরক শুল্ক অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে প্রয়োগের ফলে রাজস্ব কিছুটা বাড়তে পারে। যে সব সেবা খাতে খণ্ডিত ভিত্তিতে ভ্যাট হিসাব করা হতো- সেখান থেকে ভ্যাট বেশি আসবে।

তিনি বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়া ভ্যাট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ঘাটতি থাকবে। ভ্যাট ঘাটতি পূরণের জন্য প্রত্যক্ষ কর, এনবিআর বর্হিভূত রাজস্ব আদায় ও কর বর্হিভূত রাজস্ব আদায়ে জোর দিতে হবে।

বাজেট ঘাটতি সম্পর্কে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, গত ১০ বছর ধরে বাজেট, সংশোধিত বাজেট ও প্রকৃত অর্জন- এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাজেট ঘাটতির হিসাব করা হচ্ছে। প্রতি বছরই সংশোধিত বাজেটে ২০-৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়।

তিনি বলেন, অর্থবছরের শেষে সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা তা অর্জন দেখানো হচ্ছে। মূলত বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না; সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে। এবারও মূল বাজেটের লক্ষ্যমাত্রায় রাজস্ব ঘাটতি ৩৭ হাজার কোটি টাকা। মূলত প্রাক্কলনের গুণগত মান না থাকায় এই ঘাটতি হয়েছে।

দেবপ্রিয় বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব বোর্ডের প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে ঘাটতি থাকবে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। আর যে হারে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে সে হিসেবে ধরলে, প্রবৃদ্ধি হবে ১৫ শতাংশ; এমনটি হলে ঘাটতি থাকবে ৫১ হাজার কোটি টাকা। আর জিডিপির সঙ্গে তুলনা করলে রাজস্ব ঘাটতি হবে ৫৫ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ভ্যাটের ঘাটতি পূরণে ব্যক্তি খাতে কর আদায় বাড়াতে হবে। বাংলাদেশে করযোগ্য এক তৃতীয়াংশ মানুষও কর দেয় না। রাজস্ব ঘাটতি দূর করতে এলাকাভিত্তিক, পেশাভিত্তিক আয়কর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। করের ভিত্তি প্রসারিত না হলে বর্তমান করদাতাতের অত্যাচার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ট্যাক্সনেট বাড়াতে ট্যাক্সের সুবিধাগুলোর দেশের অন্যান্য বিভাগে সম্প্রসারণ করতে হবে। এনবিআরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জনবল ও অবকাঠামো সুবিধা দিতে হবে।

দেবপ্রিয় বলেন, প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। দেশের আইনি এবং বেআইনি আয় দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে সৎ উপার্জনকারীরা করের চাপে থাকবে- এটা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অবৈধ অর্থ উপার্জন ও পাচারকারীদের নাম-পরিচয় ঘোষণা হওয়ার পরও যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে সৎ করদাতাদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে। পাচার রোধ এবং প্রত্যক্ষ কর আদায়ে জোর দিতে হবে।

ফোর-জি লাইন্সেস সম্পর্কে তিনি বলেন, এই বছর ফোর-জি লাইন্সেস থেকে কর বর্হিভুত অনেক আয় হবে। ফোর-জি বিক্রির ক্ষেত্রে বাঁধা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে লক্ষ্য রাখতে হবে। সম্প্রতি একটি মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে; দুইটি একীভূত হয়েছে। প্রতিযোগিতা ও সর্বোচ্চ বিক্রি বাড়াতে বাইরে থেকে বিনিয়োগকারী নিয়ে আসতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক