পরমাণু ইস্যুতে ফের আমেরিকার হুমকি; সমঝোতা না টিকলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইউরোপ

পরমাণু ইস্যুতে ফের আমেরিকার হুমকি; সমঝোতা না টিকলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইউরোপ

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি আবারো তেহরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন দাবির পুনরাবৃত্তি করে ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আমেরিকার নর্থ ক্যারোলাইনার ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে দেয়া বক্তৃতায় নিকি হ্যালি এসব কথা বলেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলায় নিকি হ্যালি অনেকটা গর্ব করে বলেছেন, আমরা এবং ইউরোপীয় মিত্ররা পরমাণু সমঝোতায় পরিবর্তন আনা এবং তার ভাষায় সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন না দেয়ার ব্যাপারে ইরানের কাছ থেকে জবাবের অপেক্ষায় আছি। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হুমকি দিয়ে আরো বলেছেন, ইউরোপীয়রা যদি পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকে তবুও আমরা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাব।

নিকি হ্যালি এমন সময় এসব কথা বলেছেন যখন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো গতকাল (শুক্রবার) টেলিফোন সংলাপে দু’জনেই ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকা এবং তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, পরমাণু সমঝোতা ধ্বংস করে দেয়া হলে সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কেউই লাভবান হবে না।

পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে অন্য দেশের নীতির মিল নেই। কারণ মস্কো ও বেইজিং পরমাণু সমঝোতায় যে কোনো পরিবর্তন আনার বিরোধী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত জানুয়ারিতে পরমাণু সমঝোতায় পরিবর্তন আনার জন্য দেশটির কংগ্রেস ও ইউরোপীয় সরকারগুলোকে তিন মাস সময় দিয়েছিলেন। তা না হলে তিনি এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। ডেমোক্রেট দলের সিনেটর ক্রিস মারফি ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের ব্যাপারে ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ইরান পরমাণু সমঝোতা ঠিকমত মেনে চলছে এবং এই চুক্তিতে পরিবর্তন আনার জন্য ফের আলোচনায় বসার কোনো সুযোগ নেই।

ইরান শুরু থেকেই পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততার প্রমাণ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএও অন্তত দশটি প্রতিবেদনে বলেছে, ইরান পুরোপুরি পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে। এ ছাড়া, আমেরিকা এক তরফাভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলে নিজেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সময় ক্ষেপণের মাধ্যমে নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন এবং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে যতটা সম্ভব আরো ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছেন। জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধির বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, পরমাণু সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটন দু’টি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

প্রথমত, মার্কিন অযৌক্তিক নীতির প্রতি বহু দেশের সমর্থন নেই এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটি কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়ত, আমেরিকা এটা ভালো করেই জানে কোনো হুমকি ও চাপের কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না এবং যে কোনো হঠকারী কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে প্রস্তুত তেহরান।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট