পাটের জীবনকাল ১০০ দিনে নামিয়ে আনতে চাই

পাটের জীবনকাল ১০০ দিনে নামিয়ে আনতে চাই

পাটের জীবনকাল ১ শ দিনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন গবেষকরা। চলতি বছর থেকেই এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)।

এ ছাড়াও, অধিক লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্য রয়েছে। চলতি বছরেই ‘রবি-১’ নামের পাটের নতুন একটি জাতও বাজারে ছাড়া হবে। যাতে প্রচলিত জাতের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ ভাগ বেশি উৎপাদন হওয়ার কথা রয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে আগামী এক বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. মো. মনজুরুল আলম এসব তথ্য জানান।

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর গবেষণা কার্যক্রম ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরে বিজেআরআই এর মহাপরিচালক ড. মো. মনজুরুল আলম জানান, এই বছরে আমাদের এমন একটি জাত প্রয়োজন যার জীবনকাল ১০০ দিন হলেও ফলনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না। এরই মধ্যে এমন একটি জাত ডেভেলপও করা হয়েছে। সাধারণত পাটের জীবনকাল ১২০ দিন। আমরা তা ১০০ দিনে নামিয়ে আনতে চাই।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা বেশ কয়েকটি লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করেছি। চলতি বছরে অধিকতর লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবণের লক্ষ্য রয়েছে। আমরা শুধু পরিকল্পনা করছি না, কাজও করছি। এ বছরেই আমরা রবি-১ নামের পাটের একটি জাত অবমুক্ত করবো, যার উৎপাদন হবে প্রচলিত জাতের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ ভাগ বেশি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশে পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সস্তা, আকর্ষণীয় ও সহজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করতে হবে। কৃষি যন্ত্রপাতির মতো পাটের ব্যাগও হতে হবে স্লিম অ্যান্ড স্মার্ট। অর্থাৎ পাটের ব্যবহার চাপিয়ে দেওয়া নয়, গুণগত মানের কারণেই সবাই যেন পাট পণ্য ব্যবহারে আকৃষ্ট হয়।

তিনি বলেন, পাটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে কৃত্রিম তন্তু। বলা হয় সার শুধুমাত্র পাটের বস্তায় আনতে হবে। পাটের বস্তায় বিশেষ করে ইউরিয়া বা অন্যান্য সার শ্রকিরা মাথা থেকে নামানার সময় অনেক ক্ষেত্রে ফেটে যায়। পাটের বস্তা আর্দ্রতা শোষণ করে তাড়াতাড়ি। সে অবস্থায় সারের ওজন কমে যায়। এ সমস্যার সমাধান না করে, জোর করে পাটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে এ সার্কুলার দিতে পারি। কিন্তু সেটা বাস্তবসম্মত হবে না। সে অবস্থায় পাটের ব্যাগ কৃত্রিম তন্তুর মতো না হলেও, কাছাকাছি টিকতে পারে সে ধরনের অবস্থা তৈরি করতে হবে। তা না হলে জোর করে সরকারি কেনাকাটায় পাটের ব্যাগের ব্যবহার বেড়ে যাবে, কিন্তু বেসরকারি খাতে এর ব্যবহার হবে না।

তিনি আরও বলেন, পাটের ভবিষ্যত কিন্তু টেক্সটাইল। বিজেআরআই পাটের লিগনিনের পরিমাণ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এতে করে আমাদের টেক্সটাইল শিল্পের সুতা তৈরিতে পাট ব্যবহার করা যাবে। আমাদের কাগজশিল্পের ক্ষেত্রে পাল্প আমদানি করতে হয়। আমরা যদি পাট থেকে এ পাল্প সরবরাহ করতে পারি। তাহলে আমাদের আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে কৃষি গবেষণায় বিজেআরআইর অবদান তুলে ধরে বলা হয়, এখন পর্যন্ত পাট ও পাট জাতীয় ফসলের উদ্ভাবিত জাত ৪৯টি। এর মধ্যে ২০টি জাত কৃষকেরা ব্যবহার করছে। জিনোম গবেষণার অগ্রগতি ও সাফল্য সম্পর্কে বলা হয়, পাটের জিনতত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে এখন পর্যন্ত ২টি জাত ও একটি ক্ষতিকর ছত্রাকের জীবনরহস্য বের করা সম্ভব হয়েছে। উচ্চ ফলনশীন, রোগ প্রতিরোধী ও উন্নত মানের পাটের চারটি লাইন উদ্ভাবন করা হয়েছে। আর গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ত্ব সংরক্ষণে ৭টি পেটেন্টের আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়াও পাটকে টেক্সটাইল পণ্য হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যে পাট-তুলা ও অন্যান্য তন্তুর সংমিশ্রণে সূতা ও কাপড় তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়ন সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম চলছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট