পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দর রাখার কিছু টিপস

পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দর রাখার কিছু টিপস

বিশ্বায়নের এই যুগে স্বামী-স্ত্রীর চাকরি, সন্তানদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, পরিবারের অন্যান্য দায়িত্বসহ নানা বিষয়ে নানা মতভেদ বা দ্বন্দ্ব থাকা খুবই স্বাভাবিক। পরিবারের সদস্যদের মাঝে মতের পার্থক্য থাকলেও কিছু টিপস মেনে চললে সবার মাঝে মধুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা খুব কঠিন কোনো কাজ মনে হবে না।

ঝগড়া এড়িয়ে শান্ত থাকাঃ প্রায়ই দেখা যায় মতপার্থক্যের কারণে স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন বা অন্য সদস্যদের মাঝে ঝগড়া হয়। তাই পরিবারের সবার উচিৎ কিছুটা সচেতন হয়ে কথা বলা। একজন উত্তেজিত হলে অন্যজনের উচিৎ শান্ত থাকা। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

কাজের স্বীকৃতি দেওয়াঃ দৈনন্দিন জীবনে পরিবারের সব সদস্যই কোনো না কোনো কাজ প্রতিনিয়ত করে চলেছে কিন্তু তার জন্য বিশেষ ভাবে কোনো স্বীকৃতি সে কখনো পায় নি। তাই মাঝে মাঝে এমন সব কাজের জন্য প্রশংসা করা উচিৎ যাতে করে সেই মানুষটি উৎসাহিত হয়। তাছাড়া সংসারে সবাই সমান পারদর্শী নয়, তাই বলে কাউকে অবহেলা করা একদমই উচিৎ নয়।

কাজ ভাগাভাগি করে নেওয়া: সংসারের প্রয়োজনীয় কাজগুলো ভাগাভাগি করে নেওয়া ভালো যাতে করে কারো একার কাজের বোঝা না বাড়ে। কারো পেশাগত চাপ বা পড়াশোনার চাপ থাকলে সে সময়ে অন্য আরেকজন সে কাজটি করে ফেললে আসতে আসতে পরস্পরের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও আস্থা বাড়ে।

অন্যের ইচ্ছের মূল্যায়ন করাঃ পরিবারের সদস্যদের সখ বা ইচ্ছের মূল্যায়ন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অন্যের ভালোলাগা যেমনই হোক না কেনো তাকে অসম্মান করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। তবে প্রয়োজনে ভালো-মন্দ বুঝিয়ে বলা

স্বামী-স্ত্রীর কলহঃ স্বামী-স্ত্রীর কলহ খুব সাধারণ একটি ব্যাপার। প্রতিদিনের সংসার জীবনে নানা বিষয়ে হতে পারে কলহ বা মনোমালিন্য। তাই সব স্বামী-স্ত্রীর উচিৎ নিজেদের মধ্যকার কলহ নিজেদের ঘরে, সন্তানদের অগোচরে মিটিয়ে ফেলা। সন্তানদের সামনে মা-বাবা ঝগড়া করলে সন্তানদের ওপর এর একটি বড় প্রভাব কাজ করে। আর এই প্রভাব নেতিবাচক অনেক কিছুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পারিবারিক দ্বন্দ্বঃ নানা জনের নানা মতের কারণ যে কোনো পরিবারে পারিবারিক দ্বন্দ্ব থাকবেই৷ তাই মনের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব বা ভিন্ন মত হলে তা নিজের মধ্যে লুকিয়ে না রেখে খোলাখুলি সবার সাথে আলোচনা করা খুব দরকার যাতে করে এসব দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলা যায়।

জন্মদিন বা কোন উপলক্ষ্যঃ পরিবারের সদস্যদের বিশেষ দিন যেমন জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী বা অন্য কোনো বিশেষ দিনে শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী আয়োজন করা যেতে পারে ছোট একটি পারিবারিক পার্টি, সবাই মিলে দেয়া যেতে তার পছন্দের কোনো উপহার বা অন্য কোনো সারপ্রাইজ। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এমন প্রয়াস, তা যত ছোট না বড়ই হোক না কেনো, সম্পর্কে এনে দেবে একটি মিষ্টিভাব।

অসুখ-বিসুখে বাড়তি যত্নঃ অসুখ-বিসুখে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হলে সম্পর্ককে এই যত্নটুকু করতে পারে আরও মজবুত। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তার ভাললাগার কাজগুলো করা, তার পছন্দের কিছু উপহার দেওয়া ইত্যাদি তাকে মনে করিয়ে দিতে পারে আপনার কাছে তার গুরুত্ব কতখানি।

সপ্তাহান্ত বা ছুটির দিনঃ ব্যস্ততম জীবনধারার মাঝে সাপ্তাহিক ছুটি বা অন্য যে কোনো ছুটির দিন পরিবারের সবাই একসাথে সময় কাটানো সম্পর্কের দৃঢ়তা বাড়াতে অত্যাবশ্যক। ছুটির দিনটিতে সকালের নাস্তা সবাই একসাথে করা, বা বিকেলে সবাই মিলে কোথাও ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি সবাইকে মনে করিয়ে দেবে পরিবারের সবাই একে অপরের কাছে কতটা মূল্যবান।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট