পৃথিবীতে ভেঙে পড়তে পারে মহাকাশের সেই টেসলা গাড়ি

পৃথিবীতে ভেঙে পড়তে পারে মহাকাশের সেই টেসলা গাড়ি

চলতি মাসের ৬ তারিখেই মহাকাশে লঞ্চ করা হয়েছে স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন হেভি রকেট৷ এই রকেটের ডামি পে-লোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে টেসলা রোডস্টার নামের একটি ইলেকট্রিক গাড়িকে৷ যার একমাত্র যাত্রী স্পেসস্যুট পরিহিত ‘স্টারম্যান’ নামের একটি মানুষ-পুতুল৷ কিন্তু এই টেসলা রোডস্টারের ভবিষ্যৎ কী? কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?

সম্প্রতি টেসলা রোডস্টারের ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের উদ্দেশে তিনজন বিজ্ঞানী গাড়িটির আগামি কয়েক মিলিয়ন বছরের কক্ষপথের পর্যবেক্ষণ করেছেন৷ পর্যবেক্ষণ করে তারা জানতে পেরেছেন, ভবিষ্যতে টেসলাটির পৃথিবী বা ভেনাস গ্রহে ক্র্যাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে৷ তবে তারা জানাচ্ছেন, এই ভবিষ্যৎবানী শুনে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই৷ কারণ টেসলাটির পৃথিবীতে ক্র্যাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ৷ আর ভেনাসে গাড়িটি ক্র্যাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে মাত্র ২.৫ শতাংশ৷ পর্যবেক্ষণের ফলাফলটি এই সপ্তাহে অনলাইন সাইট arXiv-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক পত্রিকাতেও প্রকাশিত হতে চলেছে৷

তবে পৃথিবী বা ভেনাসে টেসলা রোডস্টার ক্র্যাশ করার সম্ভাবনা যতই হোক না কেন, দুশ্চিন্তা তো থেকেই যায়৷ সেক্ষেত্রে বলা যেতে পারে, কয়েক লক্ষ বছর অনেকটা বেশি সময়৷ টেসলা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ করার পূর্বেই মনুষ্য সভ্যতা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মত একাধিক বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ তাছাড়া, পৃথিবীর উপরতলে পৌঁছানোর আগেই গাড়িটি পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি৷

কক্ষপথ গতিবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ তিন বিজ্ঞানী হানো রেইন, ড্যানিয়েল তামায়ো এবং ডেভিড ভকরুলিকি জানিয়েছেন, গাড়িটি স্পেসে ভাসমান হওয়ার কারণে স্টারম্যান ঠিক কোথায় থাকবে তা নিশ্চিতভাবে বলা অসম্ভব৷ তবে বর্তমানে রোডস্টারটি সূর্যের চারপাশে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরছে বলে জানা গিয়েছে৷ বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, ২০৯১ সালে প্রথম পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে রোডস্টারটি৷ তবে পৃথিবী অথবা অন্য কোন গ্রহের পাশ থেকে প্রতিটি সফল যাত্রা গাড়িটির কক্ষপথকে বিচলিত করে তুলবে৷ যার ফলে তার অবস্থানের ভবিষ্যৎবানী করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে৷

বলা যেতেই পারে, যতদিনে টেসলা রোডস্টার পুনরায় পৃথিবীতে আসবে ততদিনে হয়ত আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে৷ তাই ক্র্যাশ করার ৬ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা না করাই শ্রেয়৷

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট