পোশাকেই বলেদেবে নারীর ব্যক্তিত্ব

পোশাকেই বলেদেবে নারীর ব্যক্তিত্ব

পোশাকেই নারীর পরিচয়, ব্যক্তিত্ব তার অলংকার। পোশাক ও ব্যক্তিত্ব যথাযথ না হলে, সে নারীকে ভালো নজরে গ্রহণ করে না সমাজ। এর কারণ একটাই। আমাদের দেশে আজও নারীর সম্মানটাই আসল। আর এর জন্য দায়ি আমাদের বেড়ে ওঠা।

ছোটোবেলায় এদেশের পুরুষরা নিজের মা, বোন বা দাদীকে স্বল্প বস্ত্রে ঘুরে বেড়াতে দেখে না। বিদেশে থেকে এখানেই আমরা আলাদা। ওখানে যেটা সহজে গ্রহণযোগ্য, এখানে তা নয়। ছোটো থেকেই একজন পুরুষ তার আশপাশের মহিলাদের সম্পূর্ণ বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় দেখে। ফলত, গোপনের প্রতি আগ্রহটাও যেমন বেশি, তেমনই উগ্র বা স্বল্প পোশাকের নারীও তাদের চিত্ত চঞ্চল হওয়ার একটা কারণ। অন্যদিকে উগ্র নারীর প্রতি সম্মানও আসে না তাদের মনে। ধরেই নেয় সেই নারী সস্তা। কেননা, ছোটো থেকে এদেশের পুরুষরা জেনে এসেছে, বস্ত্রই নারীর পরিচয়, ব্যক্তিত্বই তাঁর অলংকার।

মুলত নারীর সম্মান তার নিজের হাতে। তিনি যদি মনে করেন, সকলের সামনে নিজেকে উন্মুক্ত করে রাখবেন, তবে ঠক্কর খেয়ে খেয়ে তার কপাল ভাঙবেই। সুস্থ স্বাভাবিক জীবন পেতে চাইলে নারীকে হতে হবে অনন্যা। রূপে গুণে সম্পূর্ণা। রূপে মোহিত হবে সকলে, আর ধারালো ব্যক্তিত্বের কারণে কেউ কাছে যেতে সাহস পাবে না। সাত হাত দূরে থাকবে বিপদ। অবাঞ্ছিত প্রলোভন। সে কারণেই নারীর ব্যক্তিত্ব হল খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পোশাক বলে অনেক কথা:  দেহ ফুটে উঠছে কিংবা শরীরে প্রতিটি খাঁজ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, এমন পোশাক পরা ছাড়তে হবে। নারীশরীর এমনিতেই পুরুষকে দুর্বল করে দেয়। ফলত, তার আকার দেখানো পোশাক পরলে পুরুষের চোখ সেদিকে যাবেই। কেউ প্রতিবাদ করতে আসে, তাকেও শুনতে হবে, “দেখালে দেখবই!” তখন কেতাবি কথা আওড়ে লাভের লাভ কিছুই হবে না। সম্মান বজায় রাখতে মার্জিত পোশাকই নারীকে সুন্দরী করে তুলতে পারে।

চলনেবলনে শান্তভাব:  মেয়েবেলাটা কেটেছে বহুকাল আগে। দৌড়ে দৌড়ে চলা, লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটা, কথায় কথায় জিনিসের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়া, ছেলেমানুষির লক্ষণ। ফলে পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। এতে সম্মান লাভ হবে না। হবে তার উলটো। হাসির পাত্রী হয়ে উঠবেন সেই নারী।

কথাবার্তায় মার্জিতভাব: সত্যি বলছি, মেয়েদের মুখে গালাগালি একেবারেই ভালো শুনতে লাগে না। কোনও ভালো পরিবারের মেয়ের মুখে অশ্রাব্য ভাষা তার গোটা পরিবারের অসম্মান। এতে কোনও পুরুষ যদি অসম্মানকর কথা বলে, প্রতিবাদের ভাষা থাকে না। তা ছাড়া, পুরুষ কিন্তু বাছাই করা মেয়েদেরই খারাপ ভাষায় সম্মোধন করে। তাই কথা বলার সময় মুখের ভাষার প্রতি সংযতভাব প্রয়োজন।

কোনও পুরুষকে ভালো লাগলে হামলে পড়া নয়: অনেক মেয়েরই এই কু-অভ্যাস আছে। কোনও ছেলেকে ভালো লাগলে এমন করতে থাকেন, ছেলেটি তাকে ভেবে নেয় সহজলভ্য। ফলে প্রেম তো দূরের কথা, কপালে জোটে বদনাম। তাই কোনও পুরুষকে ভালো লাগলে চুপ করে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

অতিরিক্ত কথা: মহিলারা যদি সবার সঙ্গে বেশি কথা ও বাড়তি কথা বলেন, সেটি তাঁর সম্মানের পক্ষে ক্ষতিকর। পুরুষ তাকে সম্মানের চোখে দেখে না। গুরুত্বও দেয় না।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ