প্রতিটি জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিটি জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, দেশে উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার ওপরও বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছে তার সরকার।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি জাতিকে উন্নত হতে হলে শিক্ষিত হতে হবে। তাই আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতা অনুয়ায়ী পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় একটি সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দেবে সরকার।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ৯৬ সালে একটিমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো। আমরা এখন প্রতিটি জেলায় ক্রমান্বয়ে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা কৃষির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের ঘরের ছেলেরা যাতে ঘরে খেয়ে পড়াশোনা করতে পারে তার ব্যবস্থা করছি।

তিনি বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ছেলে-মেয়েদের চেয়ে মেধাবী। তাদের মেধা বিকাশের চর্চা ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। আমরা এর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তার সরকারই দেশে প্রথম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১২টি নতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি ও ৪৪টি নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৪টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৫টি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ পাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে তিনটি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। যে সব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সে সব জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এদিকে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন, দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও অন্যান্য প্রাথমিক সুবিধা দেয়া হবে।

জুনায়েদ আহমেদ পলক  বলেছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ বাড়াতে  প্রায় ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে  ‘সি পাওয়ার প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প  হাতে নেয়া হয়েছে- যা নারীর ক্ষমতায়নের উদ্যোগকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

পলক বলেন, আগামি মার্চ থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে এবং এ বছরের নভেম্বরের মধ্যেই প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। ভবিষ্যতে যাতে আরো বেশি নারী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে যুক্ত হতে পারেন এ লক্ষ্যে এ প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান জানান, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স সাবসিডিয়ারি কোর্সে ‘বাংলা ভাষা’ এবং ‘বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের ইতিহাস’ বিষয় দুটি পাঠ্য করার জন্য ইতোমধ্যেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক