প্রতিবাদের মুখে সেন্টমার্টিনের দাবি থেকে সরে গেলো মিয়ানমার

প্রতিবাদের মুখে সেন্টমার্টিনের দাবি থেকে সরে গেলো মিয়ানমার

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের বলে দাবি করেছিল মিয়ানমার। পরে বাংলাদেশের প্রতিবাদের মুখে ওই ভুয়া তথ্য সরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার।

রোববার (০৭ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২০তম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হক এ তথ্য জানান।

বৈঠকে জানানো হয়, মিয়ানমার সরকারের জনসংখ্যা বিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে তাদের দেশের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপপুঞ্জকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে মর্মে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় যে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে এ বিষয়ে জোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা তাদের ওয়েরসাইট থেকে এটি সরিয়ে ফেলেছে বলে কমিটিকে জানানো হয়। কমিটি এবিষয়ে তৎপর থাকার এবং অন্যকোনো ওয়েবসাইটে কিংবা অন্য কোথাও এ ধরনের তৎপরতা রয়েছে কিনা তা মনিটর করার জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।

বৈঠকে আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের বিবরণ উপস্থাপন করা হয় এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের বিশ্বয়কর অগ্রগতিতে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অবস্থান ও বিশ্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি সম্পর্কে বিশ্ব নেতাদের বিভিন্ন ইতিবাচক মন্তব্য তুলে ধরা হয় এবং বাংলাদেশ যাতে এভাবে এগিয়ে যায় সেজন্য সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়।

সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের জনসংখ্যাবিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইট তাদের দেশের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে সেন্টমার্টিনকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ দেখানো হয়। ওই মানচিত্রে মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ড এবং বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অন্তর্গত সেন্টমার্টিনকে একই রঙে চিহ্নিত করা হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশের ভূ-ভাগ চিহ্নিত করা হয় অন্য রঙে। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, মিয়ানমার যদি এমন আপত্তিজনক কাজ চালিয়ে যেতে থাকে তবে বাংলাদেশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট