প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব করবে সরকার

প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব করবে সরকার

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন সবই করবে সরকার। দেশের সব বাহিনীকে দক্ষ ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদর দপ্তরে বাহিনীর ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশ সফলভাবে তা মোকাবেলা করছে।

তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকলে মিলেই কিন্তু এই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে অত্যন্ত সফলতা অর্জন করেছি, যা বিশ্বব্যাপী একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই ধারাটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে কোনো মতেই বাংলার মাটিতে কোনো রকম জঙ্গিবাদের স্থান না হয়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কাজ করে যাব, যাতে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে দেশ পেয়েছি, সে দেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

1

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কোনো ক্ষেত্রে যেনো পিছিয়ে না থাকে সেদিক থেকে আমি চেষ্টা করেছি কিভাবে তাদের আরো উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করা যেতে পারে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে ঢেলে সাজাচ্ছি। ধনীর থেকে ধনী হবো সেটা নয়, আমাদের উন্নয়নের লক্ষ্য হচ্ছে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে যারা পড়ে আছে, সাধারণ মানুষ, তাদের সার্বিক উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য।’

বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন নীতিমালা, আমাদের কর্মপদ্ধতি, আমাদের পরিকল্পনা সবকিছুই কিন্তু আমরা সমগ্র গ্রাম থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত, আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা করে যাচ্ছি, বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি, যার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে। আমরা আমাদের বাজেট পেশ করেছিলাম। ২৯ জুন আমরা বাজেট পাশ করেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। চার লক্ষ কোটি টাকার ওপরে বাজেট দিতে আমরা সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, আমাদের ৫৪ হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট দেশ, যেখানে ১৬ কোটি মানুষের বাসস্থান। এতো মানুষের খাদ্য, তাদের বাসস্থান, তাদের চিকিৎসা, শিক্ষা, উন্নত জীবন নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ।

2

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই পিজিআর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি সরকার প্রধানের নিরাপত্তার দায়িত্ব এই রেজিমেন্টের উপর বর্তায়।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট তার চিরাচরিত সুনাম অক্ষুন্ন রেখে ভবিষ্যতে অধিক সফলতা অর্জনে সক্ষম হোক। আত্মবিশ্বাসী পদভারে তারা আরও সামনে এগিয়ে যাক।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলে পিজিআর সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো, ভাতা বাড়ানো, আবাসন সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা তুলে ধরেন হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী এই রেজিমেন্টের যেসব সদস্য দায়িত্ব পালনের সময় আত্মত্যাগ করেছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং স্বজনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক