প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ইনজামাম-উল হক

প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ইনজামাম-উল হক

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়লেন সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক। আগামী ৩০ জুলাইয়ের পর আর দায়িত্বে থাকবেন না ইনজি।

বুধবার (১৭ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন পাকিস্তানের সাবেক দলপতি।

ইনজি জানান, আমি মনে করি এটাই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময়। জাতীয় দলের জন্য ৩০ জুলাই পর্যন্ত কাজ করে যাব। বিশ্বকাপ শেষে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পর বোর্ডকে আমার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছি। ২০১৬ সালে জাতীয় দলকে নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। বোর্ডের অধীনে কাজ করে আমি খুশি। এখন আমি চাই, আমার জায়গায় নতুন কেউ দায়িত্ব নিক। যিনি নতুন নতুন চিন্তা, ধারণা নিয়ে কাজ করবেন।

এ সময় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইনজি আরও বলেন, পিসিবিকে অনেক ধন্যবাদ। দলের সকলকে অনেক ধন্যবাদ। তারা আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে। বোর্ড যদি আমাকে অন্য কোনো দায়িত্ব দিতে চায়, বিশেষ করে নির্চাচক কমিটির, আমি ভেবে দেখব। কারণ ক্রিকেটই আমার রুটি-রুজি।

দ্বাদশ বিশ্বকাপে সেমি ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। টেবিলের পাঁচে থেকে শেষ করতে হয় এবারের মিশন। রানরেটে এগিয়ে থাকায় নিউজিল্যান্ড সেমির টিকিট পায়।

সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ নিয়ে ইনজি জানালেন, আমরা দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছি। যদিও সেমির আগেই ফিরতে হয়েছে। কিন্তু এই বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছি। চারটি ম্যাচ জিতেছি। কিন্তু আমরা দুর্ভাগা যে সেমিতে উঠতে পারিনি।

বিশ্বকাপের একাদশে প্রথম দিকে থাকলেও পরের ম্যাচগুলোতে ছিলেন না শোয়েব মালিক। বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের শেষ ম্যাচের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন মালিক। ইনজামামকে এটা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল।

তিনি জানান, মালিক পাকিস্তান দলে বহুদিন খেলেছে। তার মাঠ থেকেই অবসর নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু একাদশ আমি সাজাই না। পরামর্শ দিলেও একাদশ সাজানো হয় অধিনায়ক, কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে। কিছু কিছু সময় একাদশ সাজানোতে ভুল থাকে। তার মানে এই না যে নির্বাচক কমিটি ভুল, কিংবা খেলোয়াড়রা খারাপ। হতে পারে তারা ম্যাচটিতে ভালো করতে পারেনি, কিন্তু খারাপ খেলোয়াড়কে একাদশে রাখার কোনো মানে হয় না। মালিক দুর্দান্ত ক্রিকেটার, অভিজ্ঞ। দলের কম্বিনেশন ঠিক রাখতে তাকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

বোর্ডের পক্ষ থেকে তরুণ ক্রিকেটারদের দিকে নজড় রাখা হচ্ছে বলেও জানান ইনজি। প্রধান নির্বাচকের পদে থাকা এই সাবেক দলপতি জানিয়ে রাখলেন, পরের ১৫-২০ বছর জাতীয় দলকে সার্ভিস দেওয়ার মতো ক্রিকেটার তাদের হাতে আছে। শক্ত পাইপলাইন নিয়েই পাকিস্তান আগামী বছরগুলোতে লড়ে যাবে।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট