প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ মামলা দায়ের করেছেন ব্যারিস্টার সাইয়েদুল হক সুমন।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নির্যাতিত হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে রোববার তিনি এ মামলা করেছেন বলে জানান।

মামলার এজাহারে ব্যারিস্টার সুমন জানিয়েছেন, বাংলাদেশি নাগরিক প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেছেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কোনো প্রশ্নই আসে না।

তিনি বলেছেন, এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করার মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার যে ‘ধৃষ্টতা’ প্রিয়া সাহা দেখিয়েছেন তার প্রতিবাদে এই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা। মামলায় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি করেন এই আইনজীবী।

রোববার যে কোনো সময় এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ১৮ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে প্রিয়া সাহাকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

প্রিয়া এ সময় ট্রাম্পকে জানান, বাংলাদেশ থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ৩ কোটি ৭০ লাখ লোক নিখোঁজ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে প্রিয়া এ কথাও বলেন যে, মুসলিম মৌলবাদীরা তার জমি দখল করে নিয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন যাতে বাংলাদেশে বসবাস করতে পারে এ জন্য ট্রাম্পের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রিয়া এসব কথা যখন ট্রাম্পকে বলছেন তখন ১৬ থেকে ১৮ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগে সেকেন্ড মিনিস্ট্রিয়াল টু এডভান্স রিলিজিয়াস ফ্রিডম অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

ভিডিওটি প্রকাশের পর ২০ জুলাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন তা ‘ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার’।

কড়া ভাষায় প্রিয়া সাহার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রিয়া সাহার এই চরম মিথ্যাচার এবং সাজানো গল্পের পেছনে অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে। তার এই বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা।’

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ