ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরাইলি ষড়যন্ত্র: ইরানের হুঁশিয়ারি

ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরাইলি ষড়যন্ত্র: ইরানের হুঁশিয়ারি

 

দখলদার ইসরাইলি সেনাদের একের পর এক আগ্রাসনে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিন। ইরাক ও সিরিয়ায় চলমান সহিংসতা এবং দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে যখন সবাই ব্যস্ত তখন ফিলিস্তিন ইস্যুটি অনেকটাই উপেক্ষিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আল-কুদস শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদের আঙিনায় সম্প্রতি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলীতে আবারো প্রমাণিত হয়েছে ফিলিস্তিন সংকট এখনো মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে গত ১৪ জুলাই শুক্রবার আল-আকসা মসজিদের সবগুলো প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে দর্শনার্থীরা কিংবা মুসল্লিরা সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি। অবশ্য তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে এর দু’দিন পর আবার আল-আকসা মসজিদ খুলে দেয়া হলেও ইসরাইলি বাহিনী মসজিদে মেটাল ডিটেক্টর এবং ক্যামেরা ব্যবহারসহ নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং ইসরাইলি সেনারা গুলি চালায়। এতে গত কয়েক দিনে বেশ ক’জন ফিলিস্তিনি শহীদ ও শত শত আহত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে ফিলিস্তিনসহ নানা সংকটের কারণ মধ্যপ্রাচ্যে দখলদার ইসরাইলের হুমকি ও ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে উদাসীন থাকা। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল ও একটি জাতিকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে প্রথম ইসরাইলের হুমকি ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে গণহত্যা চালিয়ে ফিলিস্তিনি জাতিকে পুরোপুরি নির্মূল করার চেষ্টা চালিয়েছে ইসরাইল। তৃতীয় পর্যায়ে ইসরাইল এখন মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল আকসা মসজিদ ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এইসব ষড়যন্ত্র থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে নৈরাজ্য, অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির পেছনে ইসরাইলের হাত রয়েছে। ফিলিস্তিন সংকটের দিকে তাকালেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। আজকে যে ভয়ঙ্কর দায়েশ সন্ত্রাসীদের উদ্ভব ঘটেছে তার পেছনেও ইসরাইলের ভূমিকা রয়েছে।

ইরান সবসময়ই সবাইকে এটা বোঝানোর চেষ্টা করে আসছে যে, ফিলিস্তিন সংকট মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা। এ জন্য ইরানের ডাকে প্রতি বছর সারা বিশ্বে বিশ্ব কুদস দিবস পালিত হয় এবং ফিলিস্তিনিদের নির্যাতিত হওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী গত ফেব্রুয়ারি মাসে তেহরানে ফিলিস্তিন ইন্তিফাদা গণজাগরণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে বলেছেন, “মুসলমানদের প্রথম কেবলা বায়তুল মোকাদ্দাস উদ্ধারের বিষয়টি ভুলিয়ে রাখার জন্যই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ, রক্তপাত ও ফেতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা হয়েছে।” তিনি আরো বলেছেন, “এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর উন্নতি অগ্রগতি থামিয়ে রাখার জন্য যারা ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে তারাই মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান ফেতনার বিস্তার ঘটিয়েছে।”

যাইহোক, মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে স্থানান্তরের পরিকল্পনা, অবৈধ ইহুদি উপশহর নির্মাণ, আরো ফিলিস্তিন ভূমি দখল, অধিকৃত এলাকায় মসজিদে আযান দেয়া নিষিদ্ধ করা এবং সর্বশেষ আল আকসা মসজিদে মুসলমানদের প্রবেশে বাধা দেয়া এসবই ইসরাইল-মার্কিন গভীর ষড়যন্ত্রেরই ফসল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসরাইলি ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আল আকসা কেবল ফিলিস্তিন নয় সমগ্র মুসলমানের জন্য পবিত্র স্থান এবং এটি রক্ষার দায়িত্ব সবার।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট