ফ্রান্সের আতঙ্ক থিয়েরি অরি

ফ্রান্সের আতঙ্ক থিয়েরি অরি

নিজ দেশের জাতীয় সঙ্গীত বেজে উঠবে। অথচ তিনি দাঁড়িয়ে বুক ভরে সেই গান গাইতে পারবেন না। ফ্রান্সের প্রতিটি নাগরিক যখন, দিদিয়ের দেশমের দলের জয় চেয়ে প্রার্থনায় বসবেন, তখন তিনি ফ্রান্সকে হারানোর জন্য মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাবেন। খেলোয়াড়দের করবেন উদ্বুদ্ধ।

তিনিও ছিলেন ফ্রান্সের কিংবদন্তিদের তালিকায়। ফ্রান্সের জার্সি পরে তিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন। জিতেছেন ইউরোপিয়ান কাপ। আর দেশের হয়েও তাঁর গোল সব চেয়ে বেশি, ৫১টি। ১২৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তিনি ফ্রান্সের প্রাক্তন অধিনায়কও।

সেন্ট পিটার্সবার্গে সেই অঁরিকে দেখা যাবে শত্রুদেশের এক জন হিসেবে। গত দু’বছর অঁরি কাজ করছেন রবের্তো মার্তিনেসের সঙ্গে। তিনিই বেলজিয়ামের সহকারী কোচ। তাঁকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ করে স্ট্রাইকারদের প্রশিক্ষণ দিতে। বেলজিয়ামের অনুশীলনে তাঁর ব্যস্ততা তাই ফরাসিদের চোখে বড়ই অদ্ভুত এক দৃশ্য। আরও অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য যেন অঁরির ফ্রান্সের পরাজয় কামনা করা!

ফরাসি টিভিতে ফ্রান্সের কোচ, অঁরির প্রাক্তন সতীর্থ দিদিয়ে দেশঁ বলেছেন, ‘হ্যাঁ ও একজন খাঁটি ফরাসি। তাই উল্টো দিকের বেঞ্চে ওকে দেখাটা এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘শুধু আমাদের ক্ষেত্রে নয়, ওর নিজেরও নিশ্চয়ই ব্যাপারটা অদ্ভুত মনে হবে।’

অলিভিয়ে জিহুও কথা বলেছেন তাঁর কোচের সুরেই, ‘‘ভাবতেই পারছি না যে থিয়েরি ওঁর মূল্যবান পরামর্শ দেবেন বেলজিয়ামকে। খুব খুশি হতাম ও আমাদের সঙ্গে থাকলে।’’ কয়েক বছর আগে এই জিহুর খেলার সমালোচনা করেছিলেন অঁরি। চেলসির এই স্ট্রাইকার অবশ্য সে কথা মনে রাখেননি। যদিও বলছেন, ‘আমাদের এখন একটাই কাজ। ওকে বুঝিয়ে দেওয়া যে ও এ বার ভুল শিবির বেছে নিয়েছে।’

আপাতত দেশঁর সঙ্গে অঁরির লড়াই। অথচ এক সময় দু’জনে ফ্রান্স দলে একসঙ্গে খেলেছেন। খেলেছেন জুভেন্টাসেও। দু’জনে দু’জনকে দারুণ ভাল করে চেনেন। বয়সে অবশ্য দেশঁ ন’বছরের বড় অঁরির চেয়ে। কিন্তু দু’জনই দু’জনকে শ্রদ্ধা করেন। দু’জনে জাতীয় দলের জার্সি পরে ২১ বার এক সঙ্গে খেলেছেন। যার একটা ম্যাচেও ফ্রান্স হারেনি। বিশ্বকাপ ও ইউরো জেতা ফ্রান্স দলে দু’জনই ছিলেন।

তা হলে ফ্রান্সে কি অঁরিকে এক জন বিশ্বাসঘাতক বলা হবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আর্সেন ওয়েঙ্গার, ‘‘একেবারেই না। ও সব কিছুই শিখতে চায়। বেলজিয়াম দলে থাকলে কোনও চাপ ছাড়াই কোচিংয়ের অনেক কিছু অঁরি এ বার জেনে যাবে।’’

অঁরিকেও এটা নিয়ে অনেক বার অতীতে প্রশ্ন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য খুব সহজ। কখনওই তিনি ফ্রান্সের কোচের চাকরি ছেড়ে বেলজিয়াম শিবিরে যোগ দেননি। আর ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট নোয়েল লা গাঁত বলেছেন, ‘‘আরে ও তো ইংল্যান্ডেই থাকে। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগই রাখে না।’’

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট