বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ঐতিহাসিক জয়ে চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ঐতিহাসিক জয়ে চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলের শিরোপা জিতেছে ফিলিস্তিন। শুক্রবার ফাইনালে তারা টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে তাজিকিস্তানকে। নির্ধারিত ৯০ এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিট ছিল গোলশূন্য। টাইব্রেকারে দুটো শট ঠেকিয়ে ফিলিস্তিনিদের জয়ের নায়ক গোলকিপার রামি হামাদা। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

টাইব্রেকারে তাজিকিস্তানের তুরসুনভ কমরোন ও তাবরেজি দাভলাতমিরের শট ফিরিয়ে ফিলিস্তিনের জয়ের নায়ক গোলরক্ষক রামি হামাদা। টাইব্রেকারে ফিলিস্তিনের গোল করেন জোনাথন জোরিল্লা, মাহমুদ আলিউইসাত, মুসাব বাতাত ও আব্দুল্লাতিফ আলবাহাদারি।

আক্রমণ, প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচের ২৩তম মিনিটে দুই জনকে কাটিয়ে হেলাল মুসার নেওয়া শট গোলরক্ষক ফেরালে এগিয়ে যাওয়া হয়নি ফিলিস্তিনের। দুই মিনিট পর সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে খালেদ সালেমের নেওয়া শট দূরের পোস্টে লেগে ফিরলে দলটির হতাশা আরও বাড়ে।

৩৫তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় তাজিকিস্তান। বাঁ দিক থেকে আক্রমণে ওঠা ফাতখুল্লোয়েভ ফাতখুল্লো ফাউলের শিকার হয়ে মেজাজ হারিয়ে সামেহ মারাবাহকে ঘুষি দিয়ে লালকার্ড দেখেন। কিন্তু দশজন নিয়ে তাজিকিস্তানই পরে দারুণ খেলতে থাকে। ৫৮তম মিনিটে রাসুলোভের বাড়ানো ক্রস এক ডিফেন্ডার বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে পেয়ে যান তুরসুনোভ। কিন্তু তালগোল পাকিয়ে ঠিকঠাক শট নিতে ব্যর্থ এই ফরোয়ার্ড।

এরপর তাজিকিস্তানকে আরও দুইবার হতাশ হতে হয়। ৭৬তম মিনিটে নাজারভ আখতামের শট পোস্টে লেগে ফেরার পর রাসুলভ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল হয়নি। বেঞ্চে থাকা তাজিকিস্তানের খেলোয়াড়দের উদযাপন থেমে যায় মুহূর্তেই। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে সতীর্থের বাড়ানো বল দূরের পোস্টে ফাঁকায় থাকা বোজোরভ দিলশোধ টোকা দিতে পারেননি। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়েও গোলের দেখা পায়নি উভয় দল। ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে নিয়মিত গোলরক্ষক রিজয়েভ রুস্তভকে তুলে নিয়ে খায়রিয়েভ বেহরুজকে নামান তাজিকিস্তান কোচ। কিন্তু হামাদার মতো দলের ত্রাতা হতে পারেননি তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল একবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হলেও কখনও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ট্রফি ঘরে তুলতে পারেনি। এর আগে ১৯৯৭ সালে প্রথম এবং ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয়বার অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাতির জনকের নামের টুর্নামেন্ট ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা’। তৃতীয় আসরের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল সুদীর্ঘ ১৫ বছর। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সে আসর। পরের বছর ২০১৬ সালে হয় চতুর্থ এবং সর্বশেষ আসর। কিন্তু প্রতি বছর আসরটি আয়োজনের যে প্রতিশ্রুতি বাফুফে দিয়েছিল ২০১৭ সালে সেটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা।

এক বছর বিরতি দিয়ে এবার আবারও তারা আয়োজন করেছে আসরটি। যদিও ২০১৬ আসরে ৮ দল অংশ নিলেও এবার দলের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬-এ। এশিয়ার পাঁচটি ফুটবল জোন আছে। এই ৫টি জোন থেকে ৫টি দেশ এবং স্বাগতিক বাংলাদেশকে নিয়েই আসরটি আয়োজিত হয়।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট