বদলে গেছে এশিয়ার বৃহৎ যৌনপল্লির রূপ

বদলে গেছে এশিয়ার বৃহৎ যৌনপল্লির রূপ

‘নতুন বাবুরা মধুচক্র-ফধুচক্র বেশি পছন্দ করে। আগে এই পাড়া থেকে হোটেলে যাওয়ার ডাক আসত, দালালরা প্রায়ই মেয়ে চাইত। এখন আর চায় না। ভদ্দর ঘরের মেয়েরা এই লাইনে এসে আমাদের ভাত মারছে।’ আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন এশিয়ার সর্ববৃহৎ যৌনপল্লি কলকাতার সোনাগাছির বাসিন্দা শুভা (নাম পরিবর্তিত)। এখানে কমবেশি ১০ হাজার কিশোরী-নারী থাকেন। যৌনতাই যাদের পেশা। খদ্দের টানতে রেড লাইট এলাকাটিকে রঙিন করে তোলার চেষ্টা করছেন কয়েকজন ট্রান্সজেন্ডার শিল্পী। যৌনকর্মীদের বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালে তারা রঙ তুলিতে ছবি এঁকে দিয়েছেন।


বহুকাল আগে এ এলাকার মালিক ছিলেন সানাউল্লাহ বা সোনা গাজী নামে এক পীর। এখনও সেই গাজীর মাজার এ এলাকায় রয়েছে। সেই ‘সোনা গাজী’ নামই কালে কালে ‘সোনাগাছি’ হয়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে কলকাতা শহরে আরও অনেক নিষিদ্ধপল্লি গড়ে উঠে। মধ্য কলকাতার বউবাজার এলাকা কিংবা দক্ষিণের কালীঘাটসহ আরো অনেক জায়গায় তৈরি হয় নতুন পল্লি।


সোনাগাছিতে এখান স্থায়ীভাবে বসবাসকারী প্রায় ৬ হাজার জন এবং বাইরে থেকে আসা নারীর সংখ্যা ৪ হাজারের মতো। সব মিলিয়ে ১০ হাজার যৌনকর্মী তাদের পেশায় যুক্ত শুধু এই পাড়াতেই। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা তো বটেই, সেই সঙ্গে এই পাড়ায় যৌনকর্মীদের একটা বড় অংশ যান নেপাল আর বাংলাদেশ থেকে।

খুবই জীর্ণ একটি এলাকা সোনাগাছি। ভবনগুলোও পুরোনো। সরু সরু গলি চলে গেছে এদিকে ওদিকে। তার একপাশে হয়তো যৌনকর্মীদের বাড়িঘর আর অন্যপাশে আবাসিক ভবন। কোনো বাড়ি ৫ কামরার তো কোনো বাড়িতে ২৫ কামরা। এমন কয়েক`শ বাড়িতে যৌনসেবা চলে সোনাগাছিতে। আবার একই ঘরে পার্টিশন দিয়েও ৪ থেকে ৬ যৌনকর্মী কাজ করেন। অনেক দুঃখ, অনেক কষ্ট, অনেক সমস্যা নিয়েই দিন চলে এখানকার মানুষের।


তবে আজকাল যৌনকর্মীদের সন্তানদের অনেককেই সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা করে তাদের অনেককে লেখাপড়াও শেখানো হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট