বাজারে রমযানের প্রভাব পড়েছে

বাজারে রমযানের প্রভাব পড়েছে

রোজা সামনে রেখে ছোলা, চিনিসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলছে বাজারে। এদিকে এখনও পবিত্র রমজান মাস আসতে আরও কয়েক সপ্তাহ বাকি।

এদিকে রমযানের আগেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেড়েছে ছোলা ও বুটের ডালের দাম। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মসুর, মুগসহ অন্যান্য ডালের দাম।

শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, ফকিরাপুল, সেগুনবাগিচাসহ বেশি কিছু বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ছোলা (খোসাসহ) বিক্রি হচ্ছে ৯৮ থেকে ১০০ টাকায়; যা গতসপ্তাহের দামের চেয়ে ২০ টাকা বেশি।

এছাড়া ছোলার ডাল প্রতি কেজি ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত দুই সপ্তাহ আগেও রমজানে বহুল ব্যবহৃত পণ্যটি ৭৮ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ৪০ টাকা দরে ডাবরি বুট বিক্রি হলেও আজকের বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা দরে।

হঠাৎ দাম বাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ দেখাতে পারেনি খুচরা বিক্রেতারা। তারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি। তাই এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

এদিকে রাজধানীর বাজারে আজ হঠাৎ করে কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির দাম। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ১৫৫-১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি; আজ বিক্রি হয়েছে ১৭৫-১৮০ টাকায়। একইভাবে লেয়ার মুরগি কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায়। তবে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। গরুর মাংস ৪৩০-৪৪০ টাকায় ও খাসির মাংস ৫৩০-৫৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগির দাম হঠাৎ বাড়া বিষয়ে শান্তিনগর বাজারের মুরগি বিক্রেতা আব্দুল জানান, গতকাল রাতে রাজধানীসহ সারাদেশে ঝড়ো বৃষ্টি হওয়া খুচরা ব্যবসায়ীরা ফার্ম থেকে মুরগি আনতে পারেনি। ফলে সরবরাহ সংকটে দাম বেড়ে গেছে। তবে দুয়েক দিনের মধ্যে দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেও জানান এই বিক্রেতা।

কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজি প্রতিকেজি ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতিকেজি পটল ৪০ টাকা, বেগুন ৪৫-৫০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, কাকরোল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, ঢেড়স ৪০ টাকা, ধুন্দল ৪০ টাকা, শশা ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচা আম ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চালকুমড়া ৩০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া প্রতি ফালি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়।

বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৪৮ টাকা, আমদানি করা মোটা পেঁয়াজ ২৫ টাকা, দেশি রসুন ১৪০ টাকা, আমদানি করা মোটা রসুন ২২০ টাকা, আলু ২০ টাকা, আদা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ সপ্তাহে মাছের বাজারে তেমন হেরফের হয়নি। অধিকাংশ মাছই গত সপ্তাহের দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বড় আকারের প্রতি কেজি রুই ৪৫০-৫০০ টাকা। ছোট আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ২৫০- ৩৫০ টাকার মধ্যে। বড় আকারের কাতলা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা, আকার ভেদে প্রতিকেজি গলদা চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, বড় শিং মাছ ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, বেলে মাছ ৫০০ টাকা, রূপচাঁদা ১০০০ টাকা,বাটা ৪০০ টাকা।

ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি দুই টাকা কমে ৩৫ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ৪০ টাকা ও হাঁসের ডিম ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বিক্রেতারা প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি করছেন ৩২ থেকে ৩৮ টাকা দরে। এছাড়া মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫২ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪২-৪৪ টাকা, পারিজা ৪২ টাকা, নাজির শাইল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং লতা ৩৮ থেকে ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক