বায়ার্নকে বিদায় করে ফাইনালে রিয়াল

বায়ার্নকে বিদায় করে ফাইনালে রিয়াল

টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠলো জিনেদিন জিদানের দল। প্রথম লেগে ২-১ গোলের জয়ে এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদই। সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে আবারও হাসি লস ব্লাঙ্কোসদের। ঘরের মাঠে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেও ফাইনালে উঠে গেছে জিনেদিন জিদানের দল।

দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলের অগ্রগামিতায় ফাইনালে উঠে গেছে রিয়াল। পরিসংখ্যান বলছে দুই লেগেই প্রাধান্য ছিল বায়ার্নের খেলায়। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়ালের জাল বরাবর ১০বার শট নিয়েছে বাভারিয়ানরা। যার বেশিরভাগই ফিরেছে স্বাগতিক গোলরক্ষক কেইলর নাভাস নামক দেয়ালে বাধা পেয়ে।

ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকে থমকে দিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। মৌসুমজুড়ে যেমন দুর্দান্ত ছিলেন, তেমনি বেশকিছু মারাত্মক ভুল করে যাওয়া স্বাগতিক গোলরক্ষক নাভাসের আরেকটি ভুলের সুযোগ নিয়ে বাভারিয়ানদের এগিয়ে দেন জোসুয়া কিমিচ।

রিয়াল সেই চাপ সয়ে ম্যাচে ফিরেছে দ্রুতই। ১১ মিনিটে করিম বেনজেমার গোলে দলটি সমতায় ফেরা। মাতেও কোভাচিসের পা ঘুরে মার্সেলোর উড়িয়ে দেয়া ক্রস হেডে জালে জড়ান মৌসুমজুড়ে গোলখরায় ভুগতে থাকা ফরাসি ফরোয়ার্ড। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনজেমার এটি তিন নম্বর গোল।

সমতায় থাকা ম্যাচে এরপর দুদলই চেষ্টা করেছে এগিয়ে যাওয়ার। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে থমাস মুলারের জোরাল শট নাভাস ফিরিয়ে দিলেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বলে হামেস রদ্রিগেজের জোরাল শট মাঠের বাইরে যায় বারের উপর দিয়ে। তাতে সমতা নিয়েই বিরতি আসে।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতে না হতেই বায়ার্ন গোলরক্ষক উলরিখের হাস্যকর ভুলে ম্যাচে নিজেদের দ্বিতীয় গোল পায় রিয়াল। কোরেন্টিন তলিসোর সঙ্গে বল দেয়া-নেয়া করার সময় পিছলে পড়ে স্বাগতিক খেলোয়াড়দের জন্য গোলমুখ খুলে দেন অতিথি গোলরক্ষক। সেই ভুলের পূর্ণব্যবহার করে ৪৬ মিনিটে দলকে দ্বিতীয়বারের মত এগিয়ে নেন বেনজেমা।

পিছিয়ে পড়া বায়ার্ন ম্যাচে ফিরতে পারতো মিনিট পাঁচেক পরেই। ৫১ মিনিটে ডেভিড আলাবার বুলেট গতির শট লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক নাভাস।

ম্যাচের ৬৩ মিনিটে হামেস রদ্রিগেজকে আর ঠেকিয়ে রাখতে পারেননি নাভাস। প্রথম দফায় কলম্বিয়ান মিডফিল্ডারের নেয়া শট ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে নেয়া শট রুখতে পারেননি। জাল খুঁজে নেন এই মৌসুমেই রিয়াল থেকে ধারে বায়ার্নে যাওয়া রদ্রিগেজ। গোল করেও তাই উদযাপন থেকে বিরত থেকেছেন হামেস। হাত জোর করে ক্ষমাও চেয়েছেন!

সমতা ফেরার পর জয়সূচক গোলের পেছনে মরিয়া হয়ে ছুটেছে বায়ার্ন। ৭৪ ও ৭৯ মিনিটে অতিথিদের দুটি জোরাল আক্রমণ ঠেকিয়ে বিপদ বাড়তে দেননি নাভাস। যাতে হাসি নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন দুই লেগেই নিজের ছায়া হয়ে থাকা রোনালদো ও তার সতীর্থরা।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট