বিএনপির অপর নাম মানি না, মানবো না: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির অপর নাম মানি না, মানবো না: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির অপর নাম মানি না, মানবো না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আইনের প্রতি বিএনপির অনাস্থা চিরজীবন ছিল। তারা আইন মানে না, সংবিধান মানে না। নিয়ম মানে না। তারা তো মানি না, মানবো না পার্টি।’

বুধবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে নিজের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘গাঙচিল’ চলচ্চিত্রের শুভ মহরত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

‘এক মাসের মধ্যে দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হবে’, বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি মিডিয়াতে দেখেছি তারা এক মাসে মধ্যে বাংলাদেশ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। দশ বছর ধরেই তো তারা এই চেষ্টা চালাচ্ছে। দশ বছরে যেটা পারেননি সেটা আগামী দুই মাসে পারবে সেটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। এটা একটা হাস্যকর বিষয়।’

কাদের বলেন, ‘বিদেশিদের কাছে কান্নাকাটির পর্ব শেষ করে সর্বশেষে জাতিসংঘে গিয়েও নালিশ করলো। জাতিসংঘে কান্নাকাটি করে বাংলাদেশকে ছোট করলো, অসম্মান করল। বিএনপি দেশের জনগণ ও গণতন্ত্রকে অপমান করলো।’

জাতিসংঘ বিএনপিকে আমন্ত্রণ করেনি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘তাঁরা নিজেরা ৩০ হাজার ডলার দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করে এ আলোচনার ব্যবস্থা করেছে। যারা জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণের ভুয়া সংবাদ পরিবেশন করে জাতিসংঘ মহাসচিবকে নিয়ে ব্ল্যাকমেলিং করে। বিএনপির প্রতিনিধি দল জাতিসংঘ কমপ্লেক্সের নিচে গিয়ে বারবার আবেদন করায় বিরক্ত হয়ে জাতিসংঘের তৃতীয় পর্যায়ের এক কর্মচারী এসে তাদের সঙ্গে আলাপ করেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘নির্বাচন যখন আসে তখন অনেক বিষয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। অনেকেরই অনেক খায়েশ আছে। নির্বাচন যথাসময়ে হবে, সংবিধানের আলোকেই হবে পার্লামেন্টের বাইরের কেউ এই সরকারের থাকবে না। নির্বাচনকালীন সরকারের আকারে ছোট হবে। নির্বাচনের মূল দায়িত্বে থাকবে নির্বাচন কমিশনের উপর। সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশনকে সহায়তা করবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে যেসব প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, মন্ত্রণালয় দরকার হবে সেগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ হবে।’

তি‌নি আরও ব‌লেন, ‘সেনাবা‌হিনী নির্বাচন ক‌মি‌শনের অ‌ধী‌নে ন্যাস্ত হ‌বে না। সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে সেনাব‌হিনী মোতায়েনের বিষয়ে সরকার‌কে অনু‌রোধ কর‌তে হ‌বে। সরকার য‌দি প্রয়োজন ম‌নে ক‌রে তাহলেই সেনাবা‌হিনী কিভা‌বে মোতা‌য়েন করা যায় তা ভাবা হবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতা‌য়ে‌নের একটা বিষয় আছে এবং এটা প্রয়োজন ও সময়ই ব‌লে দেবে সেনাবাহিনী কিভা‌বে মোতা‌য়েন হ‌বে।’

নিজের উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র হওয়ার বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের কোনো পলিটিশিয়ান উপন্যাস লেখেননি। সেই উপন্যাস নিয়ে কখনও ছায়াছবিও হয়নি। আমার লেখা উপন্যাস নিয়ে আবার ছবি হবে, সিনেমা হবে সেটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। এক্ষেত্রে আমি মনে করি আমি একজন ভাগ্যবান মানুষ।’

‘আমার জীবনের একটি স্পেশাল ডে আজ। আরেকটা কারণ আছে সেটাও স্পেশাল বহুদিন ধরে ফাইট করেছিলাম, ১৯৮৩ সালের সড়ক পরিবহন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার জন্য অবিরাম লড়াই করেছি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এই অধ্যাদেশটি আজকে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে৷ আজ আমরা আশা করছি সড়ক পরিবহন বিলটি সংসদে পাস হবে’, যোগ করেন সেতুমন্ত্রী।

শুভ মহরত অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, তথ্য-প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমসহ প্রমুখ।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট