বিজিএমইএর ভবন ভাঙার বিষয়ে আদেশ ২৭ মার্চ

বিজিএমইএর ভবন ভাঙার বিষয়ে আদেশ ২৭ মার্চ

৭ মাসের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার যে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দিয়েছিলেন তা প্রতিপালনে আরও ১ বছর সময়ে চেয়ে বিজিএমইএ’র করা আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৭ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।

রোববার আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সময় চেয়ে করা আবেদনের শুনানিকালে বিজিএমই আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী আদালতকে বলেন, ‘মাই লর্ড, মৃত্যুদণ্ডের আসামিও শেষ আবেদন করতে পারে। আমরাও এই সুযোগটি চাইছি।’

এর আগে ভবনটি ভাঙতে আরো এক বছর সময় চেয়ে গত ৫ মার্চ আবেদন করে বিজিএমইএ। আর গত বছরের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএর বহুতল ভবনটি ভাঙতে সাত মাস সময় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তখন আদেশে আদালত বলেছিলেন, ‘এটাই শেষ সুযোগ। আর সময় দেওয়া হবে না।’

তার আগে গত বছরের ১২ মার্চ বিজিএমইএ ভবন ৬ মাসের মধ্যে ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই কারওয়ানবাজার সংলগ্ন বেগুনবাড়ি খালে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই দিনই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনিরউদ্দিন প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেন।

এর পরদিন বিজিএমইএ ভবন কেন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। এরপর ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বিজিএমইএ’র ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন।

রায়ে বিজিএমইএকে নিজস্ব অর্থায়নে ভবনটি ভাঙতে বলা হয়। ভবনটি নির্মাণের আগে ওই স্থানের ভূমি যে অবস্থায় ছিলো সে অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই বছরের ৫ এপ্রিল বিজিএমইএ’র আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন।

পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো বাড়ান। এর দুই বছর পর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের ৬৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির পর লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ, যেটা ২০১৬ সালের ২ জ‍ুন খারিজ হয়ে যায়। এরপর বিজিএমইএ রায় পুর্নবিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) আবেদন করেন। গত বছরের ৫ মার্চ সে আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভবন নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর থেকে বিজিএমইএ ভবনটি তাদের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
নিজস্ব প্রতিবেদক