বিধ্বংসী মিগ-৩৫ ভারতকে দিতে আগ্রহী রাশিয়া, শুরু হয়েছে আলোচনাও

বিধ্বংসী মিগ-৩৫ ভারতকে দিতে আগ্রহী রাশিয়া, শুরু হয়েছে আলোচনাও

ভারতের সঙ্গে বড়সড় সামরিক চুক্তি করতে আগ্রহী রাশিয়া। রুশ যুদ্ধবিমান নির্মাতা সংস্থা মিগ-এর শীর্ষকর্তা নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। রাশিয়ায় তৈরি নতুন যুদ্ধবিমান মিগ-৩৫ ফাইটার জেট ভারতকে দিতে চাইছে নির্মাতা সংস্থাটি। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার সঙ্গে মিগ কর্তাদের আলোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছে বলে মিগ কর্পোরেশনের ডাইরেক্টর জেনারেল ইলাইয়া তারাসেঙ্কো জানিয়েছেন। মার্কিন সংস্থা লকহিড মার্কিটের তৈরি এফ-৩৫ ফাইটারের চেয়েও রুশ মিগ-৩৫ শক্তিশালী, দাবি তারাসেঙ্কোর।

মিগ কর্পোরেশনের তৈরি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনার সম্পর্ক বহু দিনের। প্রায় ৫০ বছর ধরে মিগের তৈরি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আসছে ভারত। মিগ-২১, মিগ-২৭, মিগ-২৯— সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একের পর এক নতুন সংস্করণ বাজারে এনেছে মিগ। আর প্রায় প্রত্যেক বারই ভারত সেই সব দেশের তালিকায় থেকেছে, যারা সর্বাগ্রে সেই সব যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব পেয়েছে। মিগ-৩৫ ফাইটারের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

প্রযুক্তির দিক থেকে ফোর প্লাস প্লাস জেনারেশনের হলেও, সক্ষমতায় ফিফ্থ জেনারেশনের বিমানকেও মিগ-৩৫ টেক্কা দিতে পারে। দাবি নির্মাতাদের। ছবি: পিটিআই।

মিগ-৩৫ হল ‘ফোর প্লাস প্লাস’ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। এর আগের প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলিকে বলা হত ফোর্থ জেনারেশন ফাইটার। আর বর্তমান প্রজন্মের ফাইটারগুলিকে বলা হয় ফিফ্থ জেনারেশন ফাইটার। মিগ-৩৫-কে ফোর্থ জেনারেশনের চেয়ে অনেক আধুনিক এবং শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির নিরিখে একে আধুনিকতম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অর্থাৎ ফিফ্থ জেনারেশন ফাইটার বলতে বিশেষজ্ঞরা রাজি নন। সেই কারণেই মিগ-৩৫ ফাইটারকে ‘ফোর প্লাস প্লাস’ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি ফিফ্থ জেনারেশনের খুব কাছাকাছি।

প্রযুক্তিগত পরিভাষায় মিগ-৩৫-কে যে মর্যাদাই দেওয়া হোক, সক্ষমতার নিরিখে কিন্তু এই ফাইটারের সঙ্গে টক্কর নেওয়ার ক্ষমতা খুব কম ফাইটারেরই রয়েছে। আমেরিকায় তৈরি এফ-৩৫ কাগজে-কলমে ফিফ্থ জেনারেশন ফাইটার। প্রযুক্তির নিরিখেই তার এই মর্যাদা। কিন্তু ‘ফোর প্লাস প্লাস’ মিগ-৩৫ সেই মার্কিন যুদ্ধবিমানের চেয়ে সক্ষমতায় অনেক এগিয়ে বলে মিগ-কর্তা তারাসেঙ্কো দাবি করেছেন। এয়ার-টু-এয়ার যুদ্ধে রুশ মিগ-৩৫ মার্কিন এফ-৩৫-কে নিশ্চিত ভাবে টেক্কা দেবে, দাবি তারাসেঙ্কোর। কিন্তু ‘ফোর প্লাস প্লাস’ স্টেটাসের যুদ্ধবিমান হওয়ায় অন্তত ২০-২৫ শতাংশ কম দামে সেটি পাওয়া যাবে বলে মিগের তরফে জানানো হয়েছে।

মার্কিন এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ারের উপরে উড়ান ভারতের মিগ-২৯ ফাইটারের। এই যুদ্ধবিমানই মিগের কাছ থেকে ভারতের নেওয়া আধুনিকতম সংস্করণ। এ বার এর চেয়েও শক্তিশালী মিগ-৩৫ ফাইটার কেনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: পিটিআই।

মিগ-৩৫ ওজনে বেশ হালকা। এটি মাল্টি-ফাংশনাল যুদ্ধবিমান— অর্থাৎ এয়ার সুপ্রিম্যাসি (প্রতিপক্ষকে হঠিয়ে আকাশের দখল নেওয়া), এরিয়েল রিকনেসাঁ (আকাশ থেকে নীচে পুঙ্খানুপুঙ্খ নজরদারি চালানো) এবং কমব্যাট রোল (যুদ্ধ করা বা আক্রমণ করা)— এই সব রকম কাজেই পারদর্শী মিগ-৩৫। নির্মাতা সং‌স্থা জানিয়েছে, মিগ-৩৫-এর দীর্ঘক্ষণ আকাশে থাকার ক্ষমতা, বহু দূরে আঘাত হানার ক্ষমতা, আত্মরক্ষার ক্ষমতা, রেডারকে ফাঁকি দেওয়ার কৌশল ইত্যাদি যে কোনও ফিফ্থ জেনারেশন ফাইটারের সমতুলই।

জানুয়ারিতে বিশ্বের সামনে আনা হয়েছিল রাশিয়ার এই নতুন যুদ্ধবিমানকে। তার পর থেকেই এই যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে মিগ, জানিয়েছেন তারাসেঙ্কো। ভারত কি এই যুদ্ধবিমানের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে? তারাসেঙ্কো বলেছেন, ‘‘অবশ্যই আগ্রহ দেখিয়েছে।’’ ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে আলোচনা? মিগ-কর্তার জবাব, ‘‘বিষয়টি এখন আলোচনার স্তরে রয়েছে। কলাকৌশল এবং প্রযুক্তিগত বিষয়ে ভারত ঠিক কী চায় এবং মিগ ভারতকে কী দিতে পারবে, তা নিয়েই এখন কথা হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘যে হেতু এটা একেবারেই নতুন যুদ্ধবিমান, সে হেতু ভারত ঠিক কী চায়, তা নিয়ে আলোচনা সারতে এবং যুদ্ধবিমানটিকে ভারতের চাহিদার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে একটু সময় লাগবে।’’

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট