বিপিএলে দল পাননি যে তারকারা

বিপিএলে দল পাননি যে তারকারা

গত কয়েকটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি২০ আসরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্রিকেটার ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন সামি। ক্রিকেটার হিসেবে যতটুকু নজর কেড়েছিলেন, তারচেয়ে বেশি মজার কিছু আচরণ দিয়ে ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থকদের অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন। দারুণ নেতৃত্ব দিয়ে রাজশাহী কিংসকে শেষ চারে তুলেছিলেন। কিন্তু এবার তাকে বিপিএলের কোন দলই টানেনি। রাজশাহী কিংসে তার সতীর্থ হিসেবে খেলা ইংলিশ ওপেনার লুক রাইটও দল পাননি।

আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলে দীর্ঘদিনের সতীর্থ মারলন স্যামুয়েলসও পাননি কোন দল। দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে দল না পাওয়াদের মধ্যে আলোচিত রংপুর রাইডার্সে খেলা শাহরিয়ার নাফীস এবং ঘরোয়া আসের রানের বন্যা বইয়ে দেয়া তুষার ইমরান। এছাড়া অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ও লেগস্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন দল পাননি রবিবার অনুষ্ঠিত বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটে।

রবিবার ষষ্ঠ বিপিএল আসরের প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হয়। গতবারের মতোই ৭ ফ্র্যাঞ্চাইজি অংশ নেয় এতে। এবার প্লেয়ার্স ড্রাফটের আগেই আলোচনায় ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার মুশফিকুর রহীম। কারণ রাজশাহী কিংস তাকে ছেড়ে দিয়েছিল এবং আর কেউ আগেভাগে দলে নেয়নি। অবশ্য রবিবার প্লেয়ার্স ড্রাফট শুরুর আগ মুহূর্তে তাকে চিটাগং ভাইকিংস দলে ভিড়িয়ে নেয়। প্লেয়ার্স ড্রাফটে বেশ কিছু ক্রিকেটার এবার নাম দেননি।

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বর্তমানে আর্ন্তজাতিক টি২০ ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর বোলার আফগানিস্তানের রশীদ খান। গত বছর তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে খেললেও এবার বিপিএলে এ কারণে তাকে দেখা যাবে না। এবার অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বিগব্যাশ টি২০ আসরের সঙ্গে বিপিএলের সময়সূচী মিলে যাওয়ার কারণেই অনেকে ড্রাফটে নাম দেননি। রশীদ তার মধ্যে একজন। গত আসরে তিনি কুমিল্লার জার্সিতে তেমন সুবিধাও করতে পারেননি, ৭ ম্যাচে ৬ উইকেট নিতে পেরেছিলেন এ লেগস্পিনার। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার ছিল এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন তারকা সামি, ডোয়াইন ব্রাভো ও স্যামুয়েলসের দল না পাওয়া।

গত আসরেও ব্রাভো কুমিল্লার হয়ে খেলে উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন। ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়েছিলেন। আর সম্প্রতিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার কারণে তিনি ছিলেন পুরোপুরি ফ্রি। কারণ এ অলরাউন্ডার জানিয়েছিলেন বিশ্বের সব ঘরোয়া আসরগুলোয় খেলতে চান তিনি। বিপিএলে সবসময় সর্বাধিক উপস্থিতি থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের। কিন্তু এবার দু’দলের মধ্যে বিপিএল চলাকালীন সিরিজ থাকায় বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে। সেদিক থেকেও ব্রাভো ও সামির না থাকাটা আশ্চর্যই।

সামি গত আসরে রাজশাহীকে নিয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। নেতৃত্ব গুণে দলকে তুলেছিলেন শেষ চারে। অবশ্য বোলার হিসেবে কিছু করতে না পারলেও দুর্দান্ত নেতৃত্বের পাশাপাশি ৮ ম্যাচে ২৪.৬৬ গড়ে করেছিলেন ১৪৮ রান। এবার তাকে রাজশাহী দলে রাখেনি। ড্রাফটেও কেউ তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি। তাই মজার এই ক্রিকেটারকে এবার বিপিএলে দেখা যাবে না। তার ক্যারিবীয় সতীর্থ স্যামুয়েলস গত আসরে কুমিল্লায় হয়ে ১২ ম্যাচে দুটি ফিফটিসহ ৫৩.৫০ গড়ে করেছিলেন ৩২১ রান। তাকেও নেয়নি কোন দল।

এবার ৩৬৮ জন বিদেশী খেলোয়াড় বিপিএলে খেলার জন্য বিসিবির কাছে নাম পাঠান। এর বাইরে কয়েকজনকে নিলামের আগে নিয়ে নেয় দলগুলো। খেলোয়াড় নেয়ার জন্য এখনও সময় আছে ২৪ ঘণ্টা। ড্রাফটে নাম পাঠাননি এমন কাউকে এই সময়ে আর দলে নেয়া যাবে না। এছাড়া দল না পাওয়া তারকা ক্রিকেটারদের মধ্যে আরও আছেন ইংল্যান্ডের লুক রাইট, পাকিস্তানের ইমাম উল হক, মোহাম্মদ হাফিজ, শ্রীলঙ্কার উপুল থারাঙ্গা।

প্লেয়ার্স ড্রাফটে ১৮৫ জন স্থানীয় ক্রিকেটার ছিলেন। কিন্তু ড্রাফট শেষে এর মধ্যে ১২৭ জন দেশী ক্রিকেটারই কোন দল পাননি। স্থানীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে দল না পাওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম শাহরিয়ার নাফীসের মতো ওপেনার। তিনি ছিলেন ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরির খেলোয়াড়ের নির্ধারিত দাম ১৮ লাখ টাকা।

অবশ্য গত আসরে খুব বাজে ফর্ম গেছে নাফীসের। তিনি রংপুর রাইডার্সের হয়ে ৮ ম্যাচ খেলে মাত্র ১০৮ রান করতে পেরেছিলেন ১৩.৫০ গড়ে। এ কারণেই তাকে দলে টানার উৎসাহ দেখায়নি কেউ।

এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা সফল দুই ক্রিকেটার রাজ্জাক এবং তুষারও দল পাননি। রাজ্জাকও গত বছর রংপুরে খেলেছিলেন। দল পাননি তরুণ লেগস্পিনার লিখন এবং নাঈম ইসলাম।

দল না পাওয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাকি নামগুলো হচ্ছে- তাসামুল হক, মাইশুকুর রহমান, সোহরাওয়ার্দি শুভ, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স, মেহরাব হোসেন জুনিয়র, আব্দুল মজিদ, পিনাক ঘোষ, সাদমান ইসলাম, মিজানুর রহমান।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট