বিশ্ব নেতারা আশা করেছেন আবারও যেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসি

বিশ্ব নেতারা আশা করেছেন আবারও যেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসি

যাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে সকলেই আমাকে শুভকামনা জানিয়েছে। আবারও ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্টসহ বিশ্বনেতারা। তারা চায় যেন আবারও যেন তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়। নির্বাচনের ব্যাপারে কোনও পরামর্শ নয় বরং উৎসাহ পেয়েছি।

বিশ্বনেতারা আশা করেছেন, আবারও যেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসি। আগামীতেও তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাছে পান। বিশ্ব নেতাদের আমি বলে এসেছি, জনগণ আমাদের ভোট দিলে আসব না চাইলে নাই। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ৭৩তম জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানসহ সপ্তাহব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিভিন্ন অর্জন ও সফলতা তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ডিবিসি’র প্রধান সম্পাদক মনজুরুল ইসলামে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাদের সঙ্গেই কথা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই রোহিঙ্গাদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। তবে আমাকে কেউ পরামর্শ দেয়নি। যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা সবাই আমাকে উইশ করেছে আমি যেন আবার ফিরে আসি। তবে জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই। আগামীতে যেন আবার দেখা হয় (প্রধানমন্ত্রী হিসেবে), এই কথা সবাই বলেছে।’

দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আগে নির্বাচন হতো, একজন মিলিটারি ডিকটেটর থাকত। আমাদের সময়ে ট্রান্সপারেন্ট ব্যালট বক্স চালু করেছি, আরও বিভিন্ন অগ্রগতি আমাদের সময়ে হয়েছে। আমাদের সময়ে কতগুলো ভোট হয়েছে, আমরা তো হস্তক্ষেপ করিনি। বিএনপি থাকলে তো সিল মেরেই নিয়ে নিত কিংবা রেজাল্ট আটকে ভোট বদলে দিত।

বাংলাদেশকে নিয়ে অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ষড়যন্ত্রের উর্বর ভূমি। কিছু মানুষ সবসময় অপেক্ষা করে, মানুষ ভালো থাকলে যেন তারা ষড়যন্ত্র করতে পারে। এই বাংলাদেশের বাংলাদেশের যে এত উন্নতি, এর সবকিছুই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুরু করে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, ১৯৭৫ সালে তাকে হত্যা করা হলো। এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা আর দেশের উন্নয়নে কোনো কাজ করেনি। আজ কি দিন বদল হয়নি? মানুষ খাবার পাচ্ছে না?— প্রশ্ন রাখেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন তারা অপেক্ষা করছে, সরকার চলে যাবে। এমন একজন আসবে যাদের চাল নাই, চুলা নাই; কিন্তু ক্ষমতায় আসার খায়েস আছে। তাদের খায়েস পূরণ করতে গিয়ে তো খেসারত দিতে হয় জনগণকে। ১০ বছর ক্ষমতায় আছি, দেশের মানুষ শান্তিতে আছে। আমাদের তরুণদের জন্য শিক্ষা-গবেষণার সুযোগ আমরা করে দিয়েছি। চাকরির জন্য যেন মুখাপেক্ষী না হতে হয়, সে জন্য তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছি। কিন্তু তারপরও পত্রিকায় লেখা হয়, সরকার এইখানে ফেল করেছে। ওটাই তাদের আত্মসন্তুষ্টি। কিন্তু আমরা নিজেদের স্বার্থের জন্য রাজনীতি করি না, মানুষের জন্য কাজ করি।

শেখ হাসিনা বলেন, মনে রাখতে হবে, আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা শুধু দুই বোন বেঁচে আছি। গতকাল (২ অক্টোবর) ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা হয়েছে। এই দেশটি ভূমিকম্প আর সুনামিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। আমার ছোট বোন রেহানা, লন্ডন থেকে আমাকে এসএমএস করেছে ইন্দোনেশিয়ার পাশে দাঁড়াও। আমি দেশটির প্রেসিডেন্টকে ফোন করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি। তবে আমরা অনেক উন্নয়ন করেছি, এমনিতেই ক্ষমতায় চলে আসব— এটা ভাবার সুযোগ নাই। বাংলাদেশ তো সে রকম দেশ না। এখানে কিছু মানুষ ষড়যন্ত্র করার জন্যই বসে থাকে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট