ব্রাজিলের নিষিদ্ধ স্থান

ব্রাজিলের নিষিদ্ধ স্থান
৭৭ হাজার বর্গকিলোমিটার, প্রায় অর্ধেক বাংলাদেশের সমান। ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলের এই বিশাল এলাকাটি সম্পূর্ণরূপে বাইরের কারও জন্য নিষিদ্ধ অনির্দিষ্ট কালের জন্য। কেন? সেটাও একটা অদ্ভুত ঘটনা।
 
আমাজন রেইনফরেস্ট এক বিশাল প্রাকৃতিক জঙ্গল। এর বিস্তার প্রায় দুই বিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার। প্রায় ১১টি দেশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে এই বিশাল জঙ্গলটি। এই পুরো জঙ্গলটি যদি একটি দেশ বলা যেত, তাহলে এটি হতো পৃথিবীর নবম বৃহৎ দেশ।
রহস্যময় এই আমাজন এর জঙ্গলে এমন সব এলাকা রয়েছে যেখানে কি থাকতে পারে তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। সেরকমই একটি এলাকা হল ভ্যাল ডো জাভারি রিজার্ভেশন। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটা কোন এক ধরনের সংরক্ষিত এলাকা, ঠিকই ধরেছেন আপনি।

 
এই এলাকায় পাওয়া গেছে এমন কিছু স্থানীয় আদিবাসীদের গ্রাম, যাদের বাইরের পৃথিবী নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারনা নেই। তারা এখনও সেই প্রাচীন আমলের লোক হয়েই আছে, চিন্তা চেতনা, সংস্কৃতি, আচার-বিচার সহ সব কিছু নিয়ে তারা এখনও ঠিক প্রাচীন পৃথিবীতেই আটকে আছে। তাদের এলাকাটি রয়েছে আমাজন এর ব্রাজিল অংশে।
 
আকাশ থেকে চালানো সার্ভেতে দেখা যায় প্রায় চোদ্দটি গ্রাম রয়েছে যারা জীবন যাপনের জন্য সম্পূর্ণরূপে কৃষি এবং আমাজন জঙ্গলের উপরে নির্ভরশীল। তাদের জীবন-যাপন ও সংস্কৃতি বাইরের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত রাখতে তাই ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ এই বিশাল এলাকাটিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা দিয়ে সেটাতে বাইরের কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
এই মানুষগুলোর এখনও কোন ধারনা নেই কিভাবে বাইরের পৃথিবী গত একশ বছরে বদলে গেছে। তারা এখনও সেই প্রাচীন আমলের পদ্ধতিতে কৃষি কাজ, নদীতে ভেলা ও ক্যানু ভাসিয়ে মাছ ধরা ও আমাজন জঙ্গল থেকে পাওয়া পশু শিকার করেই কাটিয়ে দিচ্ছে।
 
মাঝে মাঝে গোপনে আকাশ থেকে ও দূর থেকে তাদের উপরে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। সেখান থেকেই পাওয়া এই ছবিগুলো। একদিন হয়ত এই বাঁধা থাকবে না, আধুনিক মানুষ এবং আধুনিকতার আশীর্বাদ কিংবা অভিশাপ তাদেরও স্পর্শ করবে। ততদিন পর্যন্ত থাকুক তারা তাদের মত করেই। আদিম সরলতায়।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট